একতা ডেস্কঃ আদালত স্ত্রীসহ এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি সাইফুলের বাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রোক, ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ দিয়েছেন। এছাড়া মা-স্বামী-ভাইসহ সাংবাদিক মুন্নী সাহার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গতকাল ৩ জুন, মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের (বরখাস্ত) স্ত্রী নুসরাত জাহানের ১৬৪ শতাংশ জমি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তার নামে থাকা চারটি ব্যাংকের তিন কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোঃ জাকির হোসেন গালিব এ আদেশ দেন।
এদিন দুদকের উপপরিচালক মোঃ জাবেদ হোসেন সজল এ আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তা মঞ্জুর করেন। গত ২৪ এপ্রিল জিয়াউল আহসানের নামে থাকা তিনটি ফ্ল্যাট ও পাঁচটি বাড়িসহ একশো বিঘা জমি জব্দের আদেশ দেন আদালত। একইসঙ্গে নয়টি ব্যাংক হিসাবের এক কোটি ২৮ লাখ ৯০ হাজার ৫১১ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৫ আগস্ট গভীর রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাইফুল আলম ও তার স্ত্রী লুবনা আফরোজের নামে আগুলিয়ায় থাকা ৯ তলা বাড়ি, পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাট ও ২৩ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব সম্পদের মূল্য ৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মোঃ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। এদিন দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপ-পরিচালক তাহাসীন মুনাবীল হক এই আবেদন করেন।
তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আদায় করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
চার ঘণ্টা পর পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় মুন্নী সাহাকে। পুলিশ স্বপ্রণোদিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার না করায় এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলার প্রেক্ষিতে আদালতে হাজির হওয়ার শর্তে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯৭ ধারা অনুযায়ী তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা সে সময় জানিয়েছিলেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মালিক।
গত বছরের ৬ অক্টোবর মুন্নী সাহার সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে চেয়ে সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। চিঠিতে তার আমানত, ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, ফরেন ট্রেড, এক্সচেঞ্জ, লকার ও অফশোর ব্যাংকিংয়ের তথ্য চাওয়া হয়। এ বছরের জানুয়ারিতে সাংবাদিক মুন্নী সাহা এবং তার স্বামী কবির হোসেন তাপসের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। মুন্নী সাহা ‘এক টাকার খবর’ নামে একটি সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক।
Leave a Reply