বিলায়েত হোসেন লিটন, বিশেষ প্রতিনিধিঃ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ৯ টি গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন পাঁচশতাধিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য আর আধ্যাত্মিকতায় ভরপুর এই ভিন্নধর্মী উদযাপন ঘিরে এসব গ্রামে সৃষ্টি হয়েছে ঈদের এক অনন্য আবহ।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নের কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলি ও গঙ্গানন্দপুরসহ ৯ টি গ্রামের শতশত মানুষ ঈদুল ফিতরের জামাতে অংশগ্রহণ করেন। ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি করে ও তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেন সবাই।
এই গ্রামের মানুষজন মূলত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া- সীতাকুণ্ড মাহমুদাবাদ মির্জাখিল দরবার শরিফের অনুসারী, যারা সৌদি আরবের চাঁদ দেখা ও ধর্মীয় সিদ্ধান্ত অনুসরণ করেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা সৌদি সময় অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করে আসছেন।
এবার সহস্রাইল কাটাগড়, মাইটকুমড়া ও রাখালতলি- এই তিনটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহত্তম জামাত অনুষ্ঠিত হয় সহস্রাইল কাটাগড় উত্তরপাড়া জামে মসজিদে, যেখানে ইমামতি করেন মুফতি রাকিবুল হাসান রাকিব। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তিনটি জামাত হয়, যাতে অংশ নেন স্থানীয়সহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
রাখালতলী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জব্বার ফকির বলেন, আমরা মির্জাখিল শরিফের অনুসারী হিসেবে প্রায় দুই শতাব্দী ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছি। আমাদের ঈদ উৎসব শুধু ধর্মীয় নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ।
দরিসহস্রাইল গ্রামের এক প্রবীণ মুসল্লি বলেন, এই ধারা শুরু হয়েছিল কলকাতার আলিগড় মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা শামসুল আরেফীনের হাত ধরে। তখন থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরা এই ঐতিহ্য রক্ষা করে আসছেন।
আলফাডাঙ্গা সরকারী কলেজের প্রভাষক মুহিদুল হক বলেন, আমরা সৌদির সাথে মিল রেখে অন্যদের থেকে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করলেও পরের দিন প্রতিবেশীদের সাথেও একই রকম ঈদ আনন্দ করে থাকি।
বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি গ্রামে ঈদ উদযাপনের খবর পেয়েছি। এটি স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের একটি ধর্মীয় অনুশীলন।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, সহস্রাইল, মাইটকুমড়া ও রাখালতলি-এই তিনটি স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোথাও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।
Leave a Reply