একতা ডেস্কঃ কুড়িগ্রামে ভারী বৃষ্টির কারনে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ধরলা, গঙ্গাধর ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি বাড়া অব্যাহত আছে।
আজ রোববার সকাল নয়টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যে জানা গেছে ১২ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি সমতলে ৩২ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৬২ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ২ দশমিক ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের চর গতিয়াশাম, খিতাবখাঁ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের সরিষাবাড়ী, মাঝেরচর, বুড়িরহাটসহ বিভিন্ন গ্রামে তিস্তার ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। উজানের ঢলের প্রবল স্রোতে গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক, খিতাবখাঁ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালিরহাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের রামনিয়াশা, জুয়ানসতরার চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গোচারণভূমি ও ফসলের খেত তলিয়ে গেছে।
ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকাসহ তিস্তার চরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়। ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নে অন্তত পাঁচ শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান। গতকাল বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পানিবন্দীদের মধ্যে শুকনা খাবার বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা গণমাধ্যমকে জানান, তিস্তার নদীভাঙন এলাকা গতকাল তিনি পরিদর্শন করেছেন। উজানের ঢলে বন্যার্ত পরিবারকে সহায়তা দিতে ত্রাণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিক এলাকার ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Reply