রনি আকন্দ, জয়পুরহাটঃ জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অস্ত্রধারী ডাকাতদের ধরতে গিয়ে পুলিশের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে ডাকাতদলের সঙ্গে। ডাকাত সদস্যদের ছোড়া গুলিতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৫ জানুয়ারি, শনিবার বিকেল পৌনে ৩টায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলেন, মাজের আলী ওরফে খোকা (৪৮), প্রশান্ত রবিদাস (২৭), আব্দুল মাজেদ (২৬)। এ ছাড়া পুলিশের কাজে বাধার অভিযোগে মোমেনা খাতুন (২৩) স্মৃতি আক্তার (২০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে কোদাল, নগদ ৪১ হাজার টাকা, দুটি বটি ও দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর গ্রামের আবু হায়াতের বাড়িতে ১৫ থেকে ১৬ জনের ডাকাতদল অবস্থান করছে। এ খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ, ক্ষেতলাল ও কালাই থানা পুলিশ রাত ৯টার পর ঘটনাস্থলে যায়। ডাকাতদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা আবু হায়াতের বাড়ির চার পাশে ঘেরাও করে ডাকাত দলের সদস্যদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। ডাকাত দলের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে।
পুলিশ পেছনে গিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে আরও অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স চায়। এরপর জয়পুরহাট সদর থানা, পাঁচবিবি থানার জয়পুরহাট পুলিশ লাইনসের ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ডাকাতরা আবারও এলোপাতাড়ি গুলি করে ৮ থেকে ১০ জন ডাকাত পালিয়ে যান। এ সময় ডাকাত দলের গুলিতে কনস্টেবল মিজানুর রহমান আহত হন। আত্মরক্ষার্থে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। পুলিশের পালটা গুলিতে ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা বাড়ির ভেতরে লুকিয়ে পড়েন। এ সময় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। ডিবি পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বৃহস্পতিবার সারারাত অভিযান চালানো হয়। ডাকাতদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। ডাকাতরা আত্মসমর্পণ না করে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ করে। এতে মিজানুর রহমান নামে এক কনস্টেবল গুলিতে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষেতলাল থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

Leave a Reply