সোহাগ সন্ধিঃ বসন্তের রঙে, ভক্তির আবহে ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মাগুরার শালিখা উপজেলার বুনাগাতি ইউনিয়নের নালিয়া ঘোষপাড়ায় আয়োজন করা হয়েছে বাসন্তী পূজা। যা বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের আদি দুর্গোৎসব হিসেবে বিবেচিত।
চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের নবরাত্রি তিথিতে অনুষ্ঠিত এই পূজা শারদীয় দুর্গাপূজার পূর্বসূরি হিসেবে পরিচিত। রীতিনীতিতে সামান্য ভিন্নতা থাকলেও, ধর্মীয় গুরুত্ব ও আবেগে এটি কোনো অংশেই কম নয়।

উপজেলার বুনাগাতি নালিয়া ঘোষপাড়া এলাকায় পূজা অর্চনা, অঞ্জলি, আরতি ও প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী চলছে উৎসবমুখর আয়োজন।
পূজা মণ্ডপে ভক্তদের ভিড়, শঙ্খধ্বনি আর ঢাকের তালে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।
ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলা এই পূজায় ভক্তরা দেবী দুর্গার আরাধনায় নিমগ্ন থাকেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে এই আয়োজন।
উৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শালিখায় বাসন্তী পূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয় এটি এখন হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, যা সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা আরও দৃঢ় করছে। এ ব্যাপারে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডা: সুমনা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার ঘোষ, ডা: প্রদীপ কুমার ঘোষ, এডভোকেট যুথিকা ঘোষ, সঞ্চিতা ঘোষ সহ আরো অনেকেই জানিয়েছেন গত ২০ বছর যাবত নালিয়া ঘোষপাড়ায় বাসন্তী পূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। কিন্তু পূজা মন্ডপটির কোন উন্নয়ন নেই। সরকারের কোন দৃষ্টি এই পূজা মন্ডপে পড়ে নি। এমনকি সরকারিভাবে কোন প্রকার সাহায্য ও সহযোগিতা পাইনি। তাই আমরা নালিয়া ঘোষপাড়ার সকল হিন্দু সম্প্রদায়ের একটাই দাবি বর্তমান বিএনপি সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মাগুরা ২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী সহ বিএনপির সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নিকট আহ্বান করছি যে আমাদের এই এক মাত্র বাসন্তী পূজা মণ্ডপ টির দিকে লক্ষ্য দিয়ে সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে মণ্ডপটির উন্নয়ন ঘটাতে।
Leave a Reply