ইলিয়াছ সুমন, সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিবাহ রেজিস্ট্রার, ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটি ফোরাম সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ গুরু সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার(৭ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উদ্যোগে সন্দ্বীপ উপজেলার এনাম নাহার মোড় শাখার হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ সন্দ্বীপ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মোঃ শামসুদ্দিন। সংগঠনের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার শাহেনা আকতারের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সন্দ্বীপ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মহসিন আলম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহসিন আলম বলেন, বাল্যবিবাহ একটি গভীর সামাজিক সমস্যা। এটি শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিবাহ রেজিস্ট্রার, ধর্মীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বাল্যবিবাহ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়।
সভায় বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন হারামিয়া ইউনিয়নের নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মাওলানা কাজী নিজাম উদ্দিন, বাউরিয়া ইউনিয়নের বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার আহসান উল্ল্যাহ, হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার তুষার ব্যানার্জি, পৌরসভা বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার মোঃ আইয়ুব এবং হরিশপুর ইউনিয়ন বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার আবদুল কুদ্দুস।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সুরাইয়া বেগম, হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুনা বেগম, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা সন্দ্বীপ শাখার সভাপতি ইলিয়াছ সুমন, হারামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাজী মেহরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রোগ্রাম অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন, কিরণ চন্দ্র ও রাহুল দাশ।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ রোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বিবাহ নিবন্ধনের সময় বর-কনের বয়স যাচাইয়ে আরও কঠোর হতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা যাবে না। ধর্মীয় নেতারা যদি খুতবা ও ধর্মীয় আলোচনার মাধ্যমে বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতে সমন্বিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে সন্দ্বীপকে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তাঁরা।
Leave a Reply