সাইফুল ইসলাম, মাগুরা প্রতিনিধিঃ উত্তরের হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশার কারনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মাগুরার শালিখার জনজীবন। হাড় কাঁপানো এই শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র শীতে কৃষি শ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ পড়েছে বেশি বিপাকে।
ভোর থেকেই কুয়াশার কারনে দৃষ্টিমীমা কমে আসায় সড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শীত থেকে বাচতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী ছিন্নমূল মানুষেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। তীব্র শীতে কাজ করতে না পেরে অনেক দিনমজুরকে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে।
তীব্র শীতে সবজি ক্ষেত ও বীজতলার ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় পড়েছন কৃষকেরা বিশেষ করে শীতকালীন সবজি উৎপাদনে বিরুপ প্রভাভপড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। ক্ষেতের ফসল বাঁচাতে, কৃষি অফিস থেকে নানারকম পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের।
উপজেলার আড়পাড়া বাজার বাস স্ট্যান্ডের মটর শ্রমিক লতা মিয়া জানান, সারারাত কনকনে ঠান্ডা থাকে, দিনের বেলাতেও একই অবস্থা। চাকরি বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বের হয়েছি। আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের কষ্টের শেষ নেই।
নাটোর থেকে কাজ করতে আসা কৃষি শ্রমিক মাহাবুব আলম জানান, বাড়ি থেকে বের হয়েছি কাজের সন্ধানে। তীব্র শীতে ঠান্ডা পানিতে কাজ করতে পারছি না। সংসার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে কাজ করতে এসেছি।
এদিকে শীতের কারনে বেড়েছে ঠান্ডা জনিত রোগের প্রকোপ। বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতাল গুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগিদের ভীড় বাড়ছে। উপজেলা জুড়ে সর্বত্রই হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় স্থবরিতা নেমে এসেছে।
শালিখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইমুন নেছা বলেন, শীতকালে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্ট রোগে ভোগা রোগীদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। এ ছাড়া তীব্র শীতে ভাইরাসজনিত কারণে শিশুদের শিশু ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে। ঘন কুয়াশায় ঠান্ডার মধ্যে শিশুদের বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
Leave a Reply