1. admin@dailyekota.com : admin :
  2. admin@wordpress.com : root :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মহালছড়িতে বৈসাবি মেলার সমাপনী দিনে জোন অধিনায়কের সম্প্রীতির বার্তা ও আর্থিক উপহার প্রদান মহালছড়িতে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৫ শুরু হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মহালছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কো-অর্ডিনেশন সভা অনুষ্ঠিত মহালছড়িতে ১৪৩৩ বাংলা নববর্ষ (বৈশাখী) উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত নগরকান্দা ও সালথায় বাংলা বর্ষ বরণ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত মহালছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের নববর্ষ বরণ মহালছড়িতে ঐতিহ্যবাহী মাতাই পুখরী তীর্থ মেলা ১৪৩৩ বাংলা যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত নগরকান্দা প্রেসক্লাবের বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত, বাগেরহাট মোংলা ও সুন্দরবনে দুইদিন শালিখায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ফুলবিঝুর মধ্যে দিয়ে মহালছড়িতে তিন দিন ব্যাপি বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসু’র আনুষ্ঠানিকতা শুরু

কবি খেলনা রায়ের একগুচ্ছ কবিতা

  • সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫
  • ৩৮৪ গননা করুন
কবি খেলনা রায়।
কবি খেলনা রায়।

কবি পরিচিতিঃ কবি খেলনা রায় ১৯৭৬ সালের ২৫ আগষ্ট কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার নবিয়াবাদ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। নবিয়াবাদ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি। এখান থেকেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষে নবিয়াবাদ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা। তারপর চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস। অতঃপর কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে সম্মানসহ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন।

 

১নং কবিতা

শীতল শূণ্যতা

 

কখনো কি শূণ্যতার কাছে প্রশ্ন করেছো

কেন নিজেকে একা একা লাগে

শূণ্যতার আছে এক বিশাল আকাশ

যেখানে হতাশা চাদর মুড়ি দিয়ে বসে থাকে

মনে হবে যেন হিমালয় থেকে নেমে এসেছে মাঘের প্রচন্ড শীতল হাওয়া।

আমার ভাবনারা উড়ে বেড়ায় ডানা মেলে পাখির মতো

আর আমি খেয়ালী ভাবনার দোলাচলে দোল দিয়ে যাই

নিছক কর্মব্যস্ত না হলে কল্পনার রাজ্য থেকে

নেমে আসে একঝাঁক শীতল শূণ্যতা

সে আমাকে গ্রীষ্মের তাপদাহে ও তপ্ত করতে পারে না।

 

অমাবশ্যার ঘুটঘুটে অন্ধকারে

আমি হারিয়ে যাওয়া জোনাকিপোকার আলোতে

হাতড়ে বেড়াই বেহাগী উষ্ণ পরশ

আর যখন অমাবস্যা মধ্যরাতের শেষ বেলায় এসে দিনের অপেক্ষায়

তখনো আমি একা শূণ্যতার মাঝে নিরবে খুঁজে ফিরি অতীত মিলনের পরম অনুভূতি।

 

তুমি হয়তো ভাবো কি এমন আবেশ আর প্রাপ্তির আয়োজন ছিল

কোন এক ছন্নছাড়া বিকেল অথবা দুপুরের প্রথম প্রহরে

আমি ভাবি, একআশ্চর্য সকালের আয়োজনে এনেছিল মধুকরের মাধুর্য্য

না হলে আজ শূণ্যতাকে হতাশার চাদর ঢেকে রাখতে পারতো কি

কি এমন অসীম ক্ষমতা তোমার যে আজ আমাকে শূণ্যতায় ভরিয়ে রাখো

শুধু ভালোবাসি বলে এ কেমন বিবেকহীনতা

তুমি তো বারবার বলেছো ভালোবাসি তবে আজ কেন

হিমের মতো বিশাল শূণ্যতা আমাকে ঘিরে!

 

২ নং কবিতা

তুমিহীন বসন্ত

 

আসি আসি করে এসেছে বসন্ত

প্রকৃতি জেগেছে প্রেমে

ডালে ডালে পাতা ফুটেছে ফুলের দল

চারিপাশে পাখিরা তাই করছে কোলাহল

সুনীল আকাশ দক্ষিণা বাতাস বয়ে যায় মোর প্রাঙ্গণে

রাতের তারা অবারিত ধারা বাসর কুঞ্জবনে।

 

 

কতবার ভুলেছো আমায়

আমি হেঁটে চলেছি সেই চোরাবালি ঘেঁষে

চুম্বকের মতো টানছো নিশানায়

তবুও পাইনা শেষে

হায়! সময় বড় অবেলায় এসেছো আমারে দ্বারে

ক্লান্ত পথিক হারায়েছে পথ অমানিশার ভারে।

 

নীল দিগন্ত জুড়ে বসন্তের মাখামাখি

স্তব্ধ রাতে বিরহিণী চাতকের মতো চায়

আসে বসন্ত ফুলেরা ভ্রমর লভিল শুধু তুমি এলে না, তায়!

নদী তীরে বসে যাত্রির বেশে

আহাজারি করে মাঝির তরে

সব সুখ সব সুধা মিশে গেছে তুমিহীন অন্তরে।

 

৩ নং কবিতা

ব্যর্থ প্রণয়

 

এই যে আমি রাত দুপুরে ক্লান্ত মনে ব্যর্থ আশায় থাকি বসে

একেই কি বলে ভালোবাসি

আসবে কি না তাও জানি না তবু রাত জেগে থাকি

এরই নাম বিরহ প্রণয়!

হাঁটের শেষে পথিক এসে জুড়ায় পরান গৃহে বসে

আমি ও তো পথিক বটে তবু ও কেন জুড়ায় না প্রাণ

তবে কি আমার নেই কোন ঘর

যাদের এতো ভালোবাসি সবাই তো নয় আপন।

শুধুই কি পর

আমার মতো ব্যর্থ মানুষ জগৎ জুড়ে কজন আছে

জানতে চাই না একটি বারও

শুধু জানি ভালোবাসি আঘাত দিলে যাবো সরে

তবুও জেনো ভালোবাসবো আরও।

সহজ ভাবে তাকাও যদি চোখের নেশা বেড়েই যাবে

শূণ্য মনে বুঝবে কি তা বুকের মাঝে ব্যথা পাবে!

 

৪ নং কবিতা

ভালোবাসা নয় মৃত্যুর ফাঁদ

 

প্রতিদিন আমরা কি খাই

দুটো রুটি ভাজি মাছ-মাংস আর কিছু সবজি-

ব্যস চলে যায় দিন

কখনো ভেবেছি এর সাথে কত কি খাই বিনামূল্যে

হাজার গ্যালন পোড়া তেলের ধোঁয়া ধুলো ধূসর বাতাস

খেয়ে খেয়ে আমরা তাজা ফুরফুরে চাঙ্গা মনে কাজ করি রোজ।

তারপর একদিন রোগে ভূগি কখনো কঠিন অথবা অল্প

নিত্যদিনই শুনে যাই বাস্তব এসব করুণ গল্প

কেউবা হারায় জীবন কেউবা নেয় শয্যা

কেউবা ঢাকে গোপন ব্যাধি

কেউবা ঢাকে লজ্জা।

 

শহর আমার প্রানের প্রিয় দুষিত বাতাসের গন্ধ

তবুও আমরা পড়ে আছি যেন ভালোবেসে অন্ধ।

নবীন প্রবীণ কিশোর যুবতি ছুটছে নিজ নিজ কাজে

দিন শেষে এলায়েছে দেহ বিলাশী বাস অথবা জীর্ণ কুটিরে

কেউ রাখেনা দেহের খবর মনের যাতনায় কাঁদে

কেউবা বাঁধছে সুখি নিবাস কেউ বা পড়ছে ফাঁদে।

তুমি ও আমায় দূর ছাড় করো রোজ মর্ম পীড়ণ

সীমাহীন অবহেলাতেও নেই ক্লান্তি

সব বুঝেও দাঁড়াই তোমার মনের অলিন্দে

যদিও জানি সব ভ্রান্তি।

কি কী বলে গাল পাড়ো মোরে কিছুটা বুঝতে পারি

কঠিন শীলা নয় তোমার মন তবুও লাগে ভারি।

 

শত অবহেলা শত অপমান কালো করে মুখ করো অভিমান

সে তো বিভৎস অবহেলা রোজ ভাগ্যে জোটে

আমরা নিয়তি তোমাকে দিয়ে আমার ভাগ্য দিয়েছে টুটে।

 

কার দোষ কার অবহেলা আজন্ম জন্মের পাওয়া

ভোগ করতে হবে তাইতো করছি পূর্ব জন্মের ফল চাওয়া

যদি না আসো ভালো না বাসো কেন মিছে কলরব

মৃত্যুরে ডাকি থাকি পরিপাটি বৃথা কেন যন্ত্রণার উৎসব!

 

এতো কাছে থেকেও পাই না তোমারে মনের মন্দিরে বাজাও ডঙ্কা

ভয়ে মরি এ কোন বিভাবরী ঘোর আঁধার নাকি এ আমার নেহাৎ শঙ্কা।

মনের পথে মরি ঘুরে ফিরে নিজের কর্মদোষে

যদি ভগবান না দেয় সম্মান

নিয়ে যাক দারুণ রোষে।

আমি তো মরেই আছি দেহখানি আছে কর্ম চঞ্চল

রক্তের ধারা আমি তুমি হারা পাপে পূণ্যে ভরেছি আমার অঞ্চল।

 

৫ নং কবিতা

বিভ্রান্ত শিব

 

মহা জাগতিক এক দেবতা আছে জটাধারী শিব যার নাম

ইষ্টদেবতার চরণে প্রতিনিয়ত দিচ্ছো ফুল ফল আর গোপন মনোস্কাম

মাথায় ঢালছো দুধ জল চোখে নামছে প্রবলধারা

হে শিব দেখা দাও ভালো জীবনসঙ্গী দাও বলে আত্মহারা।

 

গৃহের স্বামী শিবের মতো নেশা করে যদি প্রতিরাতে

ভরা যৌবনে অমৃতের সন্ধানে কাটাবে আঁধার রাতে

শিবের মতো স্বামী চায় যে সতীর মতো হতে হবে নারী

তা না হলে কেমন করে শিব আসবে তোমার বাড়ি।

 

সতী সতী করে কেঁদে কেটে মরে ভাং খেয়ে যে অস্থির

শুধু তোমায় ভালোবাসে এমন ক’জন পেয়েছো সুন্দর বীর

পায় না কেউ পবিত্র গেহ শুধু রমনীর শরীরে ছোটাছুটি

যখন যেমন পায় হুটোপুটি খেয়ে করে লুটোপুটি।

 

আহারে! আমার প্রাণের নাগর ভরা তরীতে দাও দোল

পুরুষ হয় পৌরুষে ভরপুর আর নারী হারায় কুল

নারী তার যৌবন বেঁচে ভালোবাসাহীন ঘর

এমনি করে নারী আর পুরুষে হয়েছে আপন পর।

 

শিবের মতো চেওনা বর চাও যেন তোমায় সুখে রাখে

বিপদে-আপদে সদা যেন তোমারে যত্নে ঢাকে

এমন পুরুষ কামনা করো যার নেশা শুধু তুমি

মনের কথা যে মনে বুঝে তারেই করো ভূমি

এবার তুমি শস্য ভান্ডারে কৃষাণীর মতো চাষো

গভীর প্রণয়ে কোমল অন্তরে তারেই ভালোবাসো।

 

তুমি নারী রসের হাড়ি অসীম ক্ষমতায় করেছে তোমায় বন্দী

জটা নাম করে শিবের মতো বরে বেশ্যা বানাবার ফন্দি

অতএব তুমি এমন কাউকে চাও যে তোমায় রাখবে ভালো

হোক সে শ্যামল গৌর অথবা কৃষ্ণের মতো কালো।

সমাপ্ত

এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর দেখুন...
© All rights reserved dailyekota 2024     About Us       Privacy Policy
Theme Customized By BreakingNews