ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সংবিধান পরিবর্তন করার কথা। কখনো বলা হচ্ছে সংস্কারের কথা। আবার কখনো পরিবর্তনের কথা। কিন্তু যারা এসব কথা বলছেন, তারা নির্দিষ্ট করে বলছেন না সংস্কার বা পরিবর্তন করে তার রূপরেখা কী হবে। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন অর্থাৎ ’৭২ সালে যে সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল দেশে তা নানা সময়ে নানাভাবে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে। তাতে সুখ বয়ে আনতে পারেনি। মানে, যারা রাজনীতিকে নেশা হিসেবে না নিয়ে পেশা হিসেবে গ্রহণ করে, তাদের জন্য কোন কাটাছেঁড়াই সুখ বয়ে আনতে পারে না। সেই সাথে দেশেরও অমঙ্গল ডেকে আনে।
আসল কথা হলো দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে যারা রাজনীতিকে নেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারে তাদের জন্য ’৭২ সালে প্রণীত সংবিধান যথেষ্টই নয় কেবল যথাযথও। তারপরও যখন তা পরিবর্তনের কথা উঠছে, তখন এ বিষয়ে তাদের বিশদ আলোচনা করাও অতিব জরুরী। বর্তমান সংবিধানে সাংঘর্ষিক বা দেশ জাতির উন্নয়নের পথে বাধা এমন কিছু যদি থেকে থাকে সেগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা দরকার পড়ে। আর সেগুলো সম্বন্ধে সরাসরি জনগণের মন্তব্যদানে সম্মান দেখাতে হবে। তাদের ওপর কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া যাবে না।
আমর মনে হয়, দেশের মানুষ সংবিধান নিয়ে, বা তার আইন নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলে না। প্রশ্ন তোলে আইনের প্রয়োগ নিয়ে। তাহলে পরিবর্তন সংবিধানে নয়। বরং সংবিধান বা আইনের প্রয়োগকারীদের চেতনা আর চরিত্রের পরিবর্তন আনাটাই এখানে জরুরী। সংবিধানে যত ভাল ভাল কথা লিখে রাখি। আমরা যদি ভাল কাজটি না করি তাহলে কি দেশের ভাল সম্ভব? দেশের ভাল চাইলে যে সংবিধান আছে, এতে যা লেখা আছে, আমরা যদি সেই মোতাবেককাজ করি তাহলে অবশ্যই দেশ ও জাতির জন্য ভাল কিছু করা সম্ভব।
সংবিধানের মূল চার নীতির মধ্যে প্রথমেই আছে বাঙালি জাতীয়তাবাদের কথা। আমরা সেখানে জাতীয়তাবাদকে তোয়াক্বা না করে দলবাদকে প্রাধান্য দিয়েছি। তারপর আছে গণতন্ত্র। সেখানে আমরা মূল্যায়ন করি নেতাতন্ত্রের। জনগণের কথা নেতা শোনে না। নেতার কথা জনগণকে শুনতে হয়। গণতন্রকেও এভাবে কবর দেয়া হলো। তারপর আছে আর্থসামজিক উন্নয়নের সার্থে সমাজতন্ত্র। তার বদলে আমরা মানছি পূঁজিতন্ত্র। এতে গরিবআরো গরিব হচ্ছে, ধনী হচ্ছে আরো ধনী। গরিবের ধন লুটেপুটে লাখোপতি থেকে কোটিপতি হচ্ছে পেশাধারী রাজনীতিক আর ব্যবসায়ীরা। আর আছে ধর্মনিরপেক্ষতা। এ ধারামতে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করা। কিন্তু আমরা সেখানে দেখতে পাচ্ছি সাম্প্রদায়িক রাজনীতি। আবার তা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠা দেয়ার আবেদনও রয়েছে চলমান।
আমরা একটিবার সংবিধানকে সম্মান দেখিয়ে চেষ্টা করতে তো পারি দেশে সুখ শান্তি আসে কি না। উন্নয়ন সম্ভব ঞয কি না। দেশের রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্মসাৎ হয় সংবিধানের জন্য নয়। ব্যক্তির চরিত্র দোষে এসব হয়। ব্যক্তি চরিত্রের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে কোন অর্থ চরি হবে না। চুরি যাওয়া অর্থ দেশের কাজে লাগবে। তাহলে দেশের উন্নয়ন অবশ্যই সম্ভব হবে। আজ আমরা ফ্যাসিস্টকে দূর করে দিয়ে আমরাই ফ্যাসিবাদকে লালন করছি এটাও তো সংবিধানের কথা না। তাহলে আমরা তা করছি কেন! এটি আমাদেরই দোষ। অতএব আসুন আগে আমরা নিজেরা পরিবর্তন হই।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply