স্টাফ রিপোর্টারঃ বাঁওড় জলমহালসমূহের ইজারা পদ্ধতি পুরোপুরি বাতিল করে জেলেদের ন্যায়সংগত মালিকানার স্বীকৃতি দিয়ে সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা নিশ্চিত করতে হবে। মৎস্যজীবীদের অনুকূলে ও জাতীয় স্বার্থে জলমহাল ব্যবস্থাপনা আইন সংশোধন করতে হবে। জাতীয় বাঁওড় উন্নয়ন বোর্ড, স্বতন্ত্র বাঁওড় জলমহাল নীতিমালা ও বাঁওড় জেলেদের প্রাস্তিক শ্রমিক হিসাবে নিজস্ব সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার দিতে হবে। ২. বাঁওড় জলমহালে মাছ চাষে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের অর্থায়নে ও জেলেদের সাথে ন্যায্য উৎপাদনের অংশীদারিত্ব চুক্তি করতে হবে, ৩। বাঁওড় উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের শুমারি, তালিকাবদ্ধ ও মৎস্যজীবী জেলে কার্ড প্রদান করতে হবে। বাঁওড় জেলেদের রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ৪। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি না করে বাঁওড় জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলা, বাঁওড় জেলেদের উন্নত জীবন-জীবিকা-কর্মসংস্থানের নিরাপদ পরিবেশ ও ষাটোর্ধদের পেনশন দিতে হবে। সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা প্রতিষ্ঠায় ৪ দফা দাবিতে ১২ মার্চ বুধবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলন আহুত কর্মসূচিতে সারাদেশের বাঁওড় অঞ্চলের মৎস্যজীবী নারী-পুরুষ প্রতিনিধিরা সমবেত হয়েছে।
বাঁওড় জেলেদের জাতীয় প্লাটফর্ম-বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের আহ্বায়ক বাঁওড় জেলে নির্মল হালদারের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কৃষকনেতা লাকী আক্তারের সঞ্চালনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আনোয়ার হোসেন রেজা, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আবিদ হোসেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিউসি) কেন্দ্রীয় নেতা কাজী রুহুল আমিন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন শুভ, বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের উপদেষ্টা বাঁওড় জেলে নিত্য হালদার, যুগ্ম আহ্বায়ক বাঁওড় জেলে বাসুদেব বিশ্বাস ও স্মারকলিপি পাঠ করেন আন্দোলনের সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাঁওড় আন্দোলনের উপদেষ্টা ডা. সাজেদুল হক রুবেল, মানবেন্দ্র দেব, যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসনে, মফিজুর রহমান নানু, আৰু তোয়াৰ অপু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
জেলেরা বলেছেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪, ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিস্ট সরকার উচ্ছেদ ও বৈষম্যহীনতার স্লোগানের বিজয়ে গঠিত সরকার দায়িত্ব নেয়ায় ভুক্তভোগী মৎস্যজীবীরা আবার নতুন আশায় বুক বাঁধছে। নতুন করে সংগঠিত হয়ে আন্দোলনের বার্তা নিয়ে সরকারের কাছে আর্জি, দেশব্যাপী বিশেষত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবগুলো বাঁওড় নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করে কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর কবল থেকে রাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় সম্পদ বাঁওড়গুলোকে উদ্ধার করে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের ন্যাসয়সঙ্গত ও প্রথাগত মালিকানার ভিত্তিতে অধিকারের নিশ্চয়তা বিধানে জাল যার, জলা তার’ নীতির আলোকে ৬টি বাঁওড়ে ৩০ হাজার ও সমগ্র বাঁওড়পাড়ের হাজার-হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করবেন। উদ্ভুত সংকট সমাধানে আমাদের সুনির্দিষ্ট ৪ দফা দাবিনামার বাস্তবায়ন চাই। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের বাঁওড় জলমহালে ইজারাপ্রথা বিলোপ ও সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা প্রতিষ্ঠার ৪ দফা দাবিকে যৌক্তিক বিবেচনা করে স্থায়ী সমাধানে দেশব্যাপী বাঁওড় জরিপ ও শুমারী, সকল বাঁওড় জলমহালে ভুক্তভোগী ভূমিজ জেলে জনগোষ্ঠীর প্রথাগত ও ন্যায়সঙ্গত মালিকানার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।

Leave a Reply