কবি পরিচিতিঃ কবি সুপর্না বিশ্বাস, ভারতের বঙ্গ রাজ্যের নদীয়া জেলায় করিমপুর শহরের শিশা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৯১ সালের ৩ মার্চ। অতি সাধারণ পরিবার তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ধোড়াদহ রজনী কান্ত হাই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার আগেই কবি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যান। তারপর করিমপুর পান্নাদেবী কলেজ থেকে বিএ, ও নেতাজী ওপেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করেন ইতিহাস নিয়ে। বিয়ের পর তার স্বামী তার পড়ার যাবতীয় ব্যয় বহন করে তাকে পড়িয়েছেন। তার স্বামী পরিমল বিশ্বাস একজন জুয়েলারী ব্যবসায়ী। বউয়ের লেখাপড়ার প্রতি ঝোঁক দেখে তাকে পড়াশোনা করিয়ে উচ্চ শিক্ষিতা হতে সহযোগিতা করেছেন। এজন্য কবি সুপর্না তার স্বামীর অবদানকে শিরোধার্য করে চলেন সর্বদা। তাছাড়া কবি সুপর্নার মেয়ের কবিতা লেখা দেখে স্বামী পরিমল বলেন যে মেয়ে পারছে, আর তুমি লিখতে পার না! এরপর থেকেই কবির কবিতা চর্চা শুরু। অন্য বিষয়ে এখনও লেখেন নি তিনি। তবে চেষ্টা আছে লেখার। কবি সুপর্না ছোটো থেকেই গান ভালোবাসেন। স্বামীর ইচ্ছাতে সে আশাও পূরন হয়েছে। মেয়েকে কবিতা করাতে করাতে কখন যে তিনিও কবিতাকে ভীষনভাবে ভালোবেসে ফেলেছেন, তিনি নিজেই বুঝতেই পারেননি। আবৃত্তি করতে ভীষণ ভালোবাসেন তিনি। নিয়মিত আবৃত্তি করে তা প্রচার করছেন সোস্যাল মিডিয়ায়। প্রশংসিতও হচ্ছেন তিনি।
ভারতের বঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন লিটল ম্যাগসহ দৈনিক পত্রিকার সাহিত্য বিভাগে কবি সুপর্ণা বিশ্বাসের কবিতা প্রচার করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ থেকেও তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে।
কবিতা-১
স্বর্ণচাঁপা
স্বর্ণচাঁপা নামটা যে তোর
দেখতে ভারী সুন্দর
তোর সুবাসে সুভাসিত
বিশ্ব প্রকৃতির অন্দর।
এত সৌরভ তোর তবুও
ভ্রমর আকৃষ্ট নয়
তোর ফুলের রসটি তেতো
সব লোকে তা কয়।
তুই যে হলি পবিত্র ফুল
মানুষের সমাজে
তোর রূপ গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে
সকলেই যেন মজে।
যে জন তোর সুবাস না পায়,
দুঃখি সেজন রয়
তোর পবিত্র সুগন্ধ পেলে
মানব প্রকৃতি সুখী হয়।
তুই যে হলি ভালোবাসা
রঙিন প্রানের আশা
স্বর্ণচাঁপা কনকচাঁপা
নামটি যে তোর খাসা।
কবিতা-২
প্রকৃতি ও প্রেম দেয় আনন্দ
আমি প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে চাই বারবার
প্রকৃতি আমায় হাতছানি দেয়
নিজের কাছে আসার।
প্রকৃতির সান্নিধ্যে এলেই মনে অপার শান্তি মেলে
নিমেষে পৃথিবীর সকল দুঃখ কষ্ট ভুলে যাই।
সবুজের সমারোহে ভরা প্রকৃতি আমার জীবনে আনে ভালবাসা
বেঁচে থাকার আশা হৃদয়ে জাগায় অনুপ্রেরণা
জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবার।
প্রকৃতি আমায় শেখায় নম্রতা সহনশীলতা
মনে আনে সম্প্রীতির ভাবনা
প্রকৃতি দেয় প্রেম আর আনন্দ।
আর পৃথিবীর যাকিছু সুন্দর
পাহাড় পর্বত নদী সমুদ্র গাছ ফল ফুল পাখি
সব কিছুকে প্রেম ও ভালোবাসার অনভূতি দিয়ে ভাবতে শেখায়।
মনে কবিত্ব আনে আর
কবিতা হয়ে ঝরে পড়ে কবির মনের প্রতিটি পাতায়
অদ্ভুত রহস্যময় এই প্রকৃতি এর অপার সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ সারা বিশ্ব ভূবন
আর আমি, হারিয়েই থাকি সদা এই বিশ্ব প্রকৃতির রঙিন মায়ায়।
কবিতা-৩
বিস্ময়কর প্রকৃতি
পাখির কলতানে মুখরিত প্রকৃতি
প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য্য দেখে মন ভরে ওঠে
সবুজের সমারোহে ভরা প্রকৃতি গেয়ে যায় আনন্দ গীত দিনরাত্রি
সূর্যাস্তের আধারে ডুবে যাওয়া পৃথিবী দেখে মন ভরে যায় এক অদ্ভুত রহস্যে।
প্রকৃতির এই অপার বিস্ময়কর ভাবনা নিয়ে সৃষ্টিকর্তা আমাদের পৃথিবীকে সাজিয়েছেন
বিশ্ব প্রকৃতিকে এক অপার সৌন্দর্য্য প্রেমানুভূতির গভীর মায়ায় সৃষ্টি করেছেন
এর বাঁধন থেকে আমরা কেউ মুক্ত নযই এর রহস্য খুঁজতে তৎপর সবাই।
কবিতা-৪
সেই তো তুমি এলে
সেই তো তুমি এলে
সমস্ত রাগ অভিমান সব কষ্ট দুরে ঠেলে
আর কখনও কোনও দিন ও ফিরবে বলে
সেই যে তুমি গেলে আমায় ছেড়ে
আমাদের ভালোবাসাকে তুচ্ছ করে
সমস্ত মায়ার বাঁধন ছিন্ন করে।
তারপর আর ফিরেও চাওনি কখনও আমার দিকে
খোঁজও নাওনি তুমি!
আমি কেমন আছি কোথায় আছি কি করছি
আদৌ বেঁচে আছি কিনা
একটি বারের জন্যেও খোঁজ নাওনি!
তো কী হয়েছে।
তাই বলে কি বেঁচে নেই আমি
দিব্যি বেঁচে আছি ভালোও আছি।
কিন্তু তুমি অনেক দেরী করে এলে
যে পথের চাওয়ার আশা
অপেক্ষার অবসান আমি অনেক আগেই করেছি
জীবনে হারিয়েছি অনেক কিছু
হারানো সেই দিন গুলো আরও সুন্দর
আরও রঙীন হতে পারতো
যদি তুমি পাশে থাকতে।
শত চেষ্টা করলেও আমরা আর
সেই হারানো সুখ শান্তি সেই আনন্দ ঘন
মুহূর্তটাকে ফিরে পাব না।
তাই যেমন আছি বেশ আছি
নিজের মতো নিজেকে ভালোবেসে।।
কবিতা-৫
ভালোবাসো সময়ের মূল্য দিয়ে
কল্পনায় যে ছবি এঁকে রাখি বুকে
বাস্তবে রূপ নিলে মন ভরে সুখে
অপরূপ খুশিতে ভরে ওঠে মন
সাধ্য কি আছে তার করিব বর্ণন।
অদম্য উচ্ছ্বাসে সেই সুখ ছোটে
অশ্রুতে রূপ নিয়ে ভুতলে তা লোটে।
অনন্য অনুভূতি আসে ধীরে ধীরে
স্বীয় গর্ভের আনন্দে মন থাকে ঘিরে।
ভালোবাসা দিয়ে করো ত্রিভুবন জয়
ভালোবাসা রশি দিয়ে বেধে রাখার নয়।
স্বীয়গুনে ভালোবাসার আছে গৌরব
সময় হলেই সে ছড়ায় সৌরভ।
সময়ের মূল্য দিতে শেখ তুমি আগে
বিশ্বটা ধরা দিবে এসে অনুরাগে।
সময়ের মূল্যটা যে দিতে পারে
সেই চলে যেতে পারে সফলতার দারে।
কবিতা-৬
কবিতা-ঘর
ঘর মানে নিজস্ব মনের বিচরন ক্ষেত্র
ইচ্ছে মতন ঘুরি ফিরি যা ইচ্ছে তাই করি
কেউ কিছুই বলার নেই।
ঘর মানে স্বাধীন মুক্ত খোলা বারান্দা
যেখানে দাড়িয়ে দুদন্ড প্রকৃতির শুদ্ধ বাতাস
নিতে পারি।
সকালের মিষ্টি রোদ গায়ে মাখতে পারি
ভালোবাসা স্বপ্ন দিয়ে সাজাতে পারি মায়ার সংসার
ভালোবাসার বন্ধনে বাঁধতে পারি আপনজনের।
ঘর মানেই অপার শান্তি সুলভ পরিবেশ
নিশ্চিন্তে দিতে পারি ঘুম
সকল দুঃখ উজাড় করে মন খুলে
হাউ হাউ করে কাঁদতে পারি
আবার আনন্দে চিৎকারও করতে পারি।
ঘর মানেই মা বাবা ভাই বোন নিয় সুখের পরিবার
ভালোবাসা স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা এক সুন্দর সাজানো সংসার
যেখানে সমস্ত আশা আকাঙ্খার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে ঘর
মানেই স্বপ্ন আশা আর শুধুই ভালোবাসার
এক অমোঘ ঠিকানা।
আমরা যদি সত্যিই ভালোবাসার ঘর বাঁধতে পারি
তাহলে আমাদের মাটির কুঁড়ে ঘরেও স্বর্গ নেমে আসে প্রিয়!
সমাপ্ত
Leave a Reply