একতা ডেস্কঃ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতি এবং বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন সম্প্রতি একটি টকশোতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার তিনি বলেন, ভারত-পাকিস্তান পরিস্থিতির কথা বলার আগে আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। ১৯৪৭ সালে দেশ
ভাগের সময় যে ধর্মভিত্তিক দর্শনের উপর দাঁড়িয়ে ভারত ও পাকিস্তান আলাদা হয়, সেই বিভাজনের সময় থেকেই এই অঞ্চলে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে, এবং আজও তা চলমান। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে আমরা যে এলাকা নিয়ে সংঘাত দেখেছি, আজও সেই একই জায়গায় টানাপোড়েন। এটা তাৎক্ষণিক সঙ্কট নয়, বরং দীর্ঘদিনের। বর্তমানে সিন্ধু নদী পানি চুক্তি নিয়েও ভারত বার্গেইন করছে, এমনকি চুক্তি বাতিল করার ইঙ্গিতও দিচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই বরাবরই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে এসেছে। আজ তারা নিজেরাই এক ধরনের সঙ্কটে পড়েছে। বাংলাদেশ সবসময় শাস্তিপূর্ণ অবস্থান নিতে চায়। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে চাই, আধিপত্যবাদ থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানাই।” আবু বাকের বলেন, “২০১৫ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ক্রিকেট ম্যাচে ভারত যেভাবে ম্যাচটি পরিচালনা করেছিল, তাতে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারতের প্রতি এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়। এরপর আমরা দেখেছি, ভারত কীভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতিতে হস্তক্ষেপ করছে।
আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে সে ভারত নিয়ে মন্তব্য করেছিল বলেই তাকে হত্যা করা হয়। এমনকি ২০১৮ সালের নির্বাচনেও আমরা দেখেছি ভারত কীভাবে আওয়ামী লীগের হয়ে সক্রিয় ছিল। আমরা দেখেছি ভারতের পররাষ্ট্রনীতি কীভাবে বাংলাদেশের ওপর চাপ তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারত-বিরোধী মনোভাব তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রজন্ম এক শক্ত বার্তা দিয়েছে, দিল্লি নয়, ঢাকা। এই যে দীর্ঘদিনের ভারতীয় আধিপত্যবাদী চর্চা, বাংলাদেশে সেটি চলবে না। জনগণ সেটিকে মেনে নেবে না। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এখন চোখে চোখ রেখে কথা বলতে প্রস্তুত।
ভারতের চারজন সেনা বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যার মধ্যে দুজনকে আটক করে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে আবু বাকের বলেন, তারা পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আমরা চোখে চোখ রেখে কথা বলি, এই নীতি আমরা সমর্থন করি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রস্তুত। ২৪ সালের এই প্রজন্ম প্রস্তুত।
Leave a Reply