একতা ডেস্কঃ যুক্তরাজ্য পশ্চিম তীরের কয়েকজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী (সেটেলার) এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গাজায় নতুন সামরিক অভিযান না বন্ধ না করায় ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ক আলোচনা স্থগিত করেছে লন্ডন। প্রায় তিন মাস যাবৎ গাজায় ত্রাণ সরবরাহে অবরোধ আরোপ করে রেখেছে ইসরায়েল। ফলে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে উপত্যকাটিতে।
এ নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ বেড়েছে তেল আবিবের ওপর। এমনকি, দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেন, গাজা এবং ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকার যে ভয়াবহ নীতি অনুসরণ করছে, তাতে তাদের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তি উন্নীত করার আলোচনা আমরা আর চালিয়ে যেতে পারি না। ইতিহাস একদিন তাদের বিচার করবে। ত্রাণ আটকে রাখা, যুদ্ধ বিস্তৃত করা, বন্ধু ও মিত্রদের উদ্বেগ উপেক্ষা করা, এসব অমার্জনীয়। এই পরিস্থিতি বন্ধ করতেই হবে। যুক্তরাজ্যে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত টিপি হোটোভেলিকে ফরেন অফিসে তলব করা হয়।
সেখানে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক মন্ত্রী হ্যামিশ ফ্যালকনার বলেন, গাজায় ১১ সপ্তাহ ধরে চলা অবরোধ নিষ্ঠুর এবং অমার্জনীয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাস জানান, গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক শাসনকারী ইউরোপীয় চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ব্রাসেলসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা মনে করছে, এই মানবিক সংকট অগ্রহণযোগ্য। তবে এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা বা পদ্ধতি স্পষ্ট করেননি তিনি।
ল্যামি বলেন, যুক্তরাজ্য নতুন করে আরও তিন ব্যক্তি, দুটি অবৈধ বসতি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতায় লিপ্ত দুটি সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এই বসতিগুলো স্পষ্টভাবে ইসরায়েল সরকারের সমর্থনে পশ্চিম তীরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
ল্যামির বক্তব্য হাউজ অব কমন্সে কেউ কেউ স্বাগত জানালেও অনেকে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান, যেমন- ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান।
Leave a Reply