একতা ডেস্কঃ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাম্প্রতিক সংলাপ সত্ত্বেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য স্পষ্ট ও কার্যকর রোডম্যাপ ঘোষণা না করায় দেশের রাজনৈতিক আবহাওয়া এখনো অনিশ্চিত ও অস্থিতিশীল। নির্বাচন ও সংস্কারের নির্দিষ্ট সময়সূচি সংক্রান্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট ও দৃঢ় অঙ্গীকার না পাওয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলোচনাগুলোকে ‘অপরিণত এবং অপ্রতুল হিসেবে আখ্যায়িত করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন অংশীজনের মতে, চলমান অনিশ্চয়তা বর্তমান সংকটকে আরও তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী করে তুলতে পারে।
স্বচ্ছতার অভাবে বর্তমান সমস্যাগুলো আরও জটিল হয়ে উঠবে। রাজনৈতিক নেতারা জোর দিয়ে বলেন, সরকারকে অবশ্যই অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ থেকে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের দ্রুত অপসারণের মাধ্যমে- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-সহ সকল রাজনৈতিক দলকে সমানভাবে বিবেচনা করে নিজের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, বিশেষ করে, যদি সরকার বিএনপির আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে উঠতে পারে।
এ অবস্থায় প্রধান উপদেষ্টার উচিত নির্বাচন ও সংস্কারভিত্তিক একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা। রাজনৈতিক দলগুলো যদি এতে অংশগ্রহণে সম্মত হয়, তাহলে চলমান অচলাবস্থা নিরসন সম্ভব। গত একসপ্তাহ ধরে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রস্তাবিত মানবিক করিডোর, চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবস্থাপনা, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি, এবং নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে এনসিপির নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ।
অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে ঢাকাসহ দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছে, যার ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সংকট নিরসনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা শনি ও রবি- এই দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি-সহ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে অংশগ্রহণ করেন।
বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে না, তবে সরকারের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। এই সময়ের মধ্যে, নির্বাচনের স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা ও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দাবিকে আরো শক্তিশালী করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, জনগণ নির্বাচনের নির্দিষ্ট রোডম্যাপ চাইছে। প্রধান উপদেষ্টাকে অবশ্যই ভোটাররা কখন ভোট দিতে পারবেন- সেই তারিখ ও মাস ঘোষণা করতে হবে। তিনি একটি দায়িত্বপূর্ণ পদে আছেন- তাহলে নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করতে কী বাধা আছে? সরকার যখন নির্বাচন রোডম্যাপ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হয়, তখন জনগণের আস্থা হারায়। এতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। আর জনগণ যখন অন্ধকারে থাকে, তখন তারা প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠতে পারে।
Leave a Reply