একতা ডেস্কঃ উত্তেজনার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি চলছে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে। এর মাঝেই ব্রিটেনের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা মাথায় রেখে নিজেদের বেঁচে থাকার কৌশল প্রস্তুত করছে। বিশ্বজুড়ে এক বৃহৎ সামরিক সংঘাতের আঁচ পড়েছে। হয়তো চীন তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, অথবা রাশিয়ার সেনারা পূর্ব ইউরোপের ন্যাটো সদস্য কোনও দেশে প্রবেশ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে বড় ব্যবসাগুলো কীভাবে কাজ চালিয়ে যাবে, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন জাস্টিন ক্রাম্প। প্রাক্তন সেনা ট্যাঙ্ক কমান্ডার এবং বর্তমানে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিবিলিনের প্রধান ক্রাম্পের ক্লায়েন্ট তালিকায় রয়েছেন ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় সুপারমার্কেট চেইন থেকে শুরু করে সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি জায়ান্টরা। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও ব্যবসা সচল রাখার জন্য তারা পরিকল্পনা তৈরি করছেন এবং এর পেছনে যুক্তি খুব স্পষ্ট: বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি মাত্র দু’বছরের মধ্যেই বাস্তব হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা এমন এক জগতে বাস করছি যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে সবচেয়ে অস্থিতিশীল এবং বিপজ্জনক। নানা সংকট মুহূর্তেই বিস্ফোরিত হতে পারে।
বড় বড় প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাই যুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কারণ এটি তাদের কাছে এখন বাস্তবসম্মত একটি আশঙ্কা। ক্রাম্প আন্তর্জাতিক বেশ কিছু স্থির না থাকা সংকটের কথা তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক ক্ষমতার প্রতি আগ্রহ, চীনের তাইওয়ান দখলের হুমকি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৯৪০-এর পরবর্তী ‘নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা সম্পর্কে অবজ্ঞা। এসব সংকট একসাথে ২০২৭ সালে আছড়ে পড়লে পৃথিবী এমন এক সময়ে পৌঁছাবে, যা ক্রাম্পের ভাষায় ‘সর্বোচ্চ বিপদের মুহূর্ত”।
২০২০ সালে ব্রিটেন সরকার জাতীয় প্রস্তুতি কমিশন গঠন করেছিল যা দেশের বন্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, সাইবার আক্রমণ বা যুদ্ধের মতো জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে। সাধারণ মানুষকে তিন দিনের খাদ্য ও পানি, টর্চ, পাওয়ার ব্যাংক, রেডিও, অতিরিক্ত ব্যাটারি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও ফার্স্ট এইড কিট রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। সম্প্রতি স্পেনে এবং পর্তুগালে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক প্রযুক্তির ওপর আমাদের নির্ভরতা একটি বড় ঝুঁকি।
২০২৭ সালের বিশ্বমঞ্চে স্থিতিশীলতা অপ্রত্যাশিত হওয়া পর্যন্ত, ব্যবসা ও দেশ দুটোই যুদ্ধের ছায়ায় নিজেদের টিকে থাকার পথ খুঁজছে।
Leave a Reply