একতা ডেস্কঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম করে বলা হয়েছিল, একসময় উনি নিজেকে চা-ওয়ালা বলতেন। এরপর বললেন চৌকিদার। এখন সিঁদুর বেচতে এসেছেন। এভাবে সিঁদুর বেচা যায় না। এতে দেশের মা-বোনেদের অসম্মান করা হয়। কয়েকদিন আগে হুংকার ছেড়ে কথাটি বলেছিলেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় একই প্রতিধ্বনি শোনা গেল পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত সিং মানের কথায়। রাজ্যের মা-বোনদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ওদের দেওয়া সিঁদুর মোদির নাম করে আপনারা কি সিঁথিতে লাগাবেন? এটা কি এক দেশ এক ভোটের মতো এক দেশ এক স্বামী প্রকল্প!
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গ সফর করেছেন। তাঁর ভাষণের অনেকটা জুড়ে ছিল সিঁদুর মাহাত্ম্য। তা শুনে ক্ষুব্ধ মমতা জানতে চেয়েছিলেন, অন্যদের হাতে সিঁদুর তুলে দেওয়ার আগে কেন তিনি নিজের স্ত্রীর সিঁথি সিঁদুরে রাঙাচ্ছেন না। চেনা ঢংয়ে আক্রমণাত্মক মমতা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেছিলেন, মনে রাখবেন, আপনি দেশের সব নারীর স্বামী নন। এই মুহূর্তে সিঁদুর বিতর্ক এতটাই তীব্র যে শাসক দল বিজেপিকে কিছুটা পিছু হটতে হয়েছে। সরে আসতে হয়েছে
ঘটা করে রাজ্যে রাজ্যে ঘরে ঘরে গিয়ে বিবাহিত নারীদের হাতে সিঁদুরের কৌটা তুলে দেওয়ার কর্মসূচি থেকে।
দেশটিরর সব সংবাদপত্র, সব টিভি নিউজ চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওই কর্মসূচির কথা লিখলেও বিজেপির আইটি সেলের কর্তা অমিত মালব্য দিন চারেক পর জানান, এমন কোনো কর্মসূচিই নাকি দল গ্রহণ করেনি। সবটাই নাকি গণমাধ্যমের কল্পনা। সিঁদুর রাজনীতি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদের মধ্যে ‘সিঁদুরে মেঘ’ দেখতে পেয়ে তাঁদের এই বোধোদয় কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক জল্পনা।
সনাতন ধর্মে নারীরা স্বামী ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পুরুষের কাছ থেকে সিঁদুর উপহার নেন না। এটা জানা সত্ত্বেও বিজেপি নেতারা জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশে রাজ্যে রাজ্যে ঘরে ঘরে মোদির নামে নারীদের সিঁদুর পাঠানোর সিদ্ধান্ত কেন নিলেন, সেটাই বিস্ময়ের। প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে বিজেপি ব্রেক কষেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, ওই খবরটা নাকি ছিল ‘ফেক নিউজ’।
সিঁদুর বিলি থেকে পিছিয়ে এলেও সিঁদুর মাহাত্ম্যের প্রচার থেকে বিজেপি মোটেই পিছপা হচ্ছে না। সরকারি প্রচারের গোটা ক্যানভাস আপাতত অপারেশন সিঁদুরেরই দখলে।
Leave a Reply