বার্ষিক পরীক্ষার আর এক মাসও দেরি নেই। এ সময়েই আবার ক্লাস বন্ধ হয়ে গেল মাধ্যমিক স্তরে। কারণ অন্য কিছু নই। রাষ্ট্রীয়ভাবে শিক্ষকদের অমর্যাদা। তাদেরকে মেরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে এ দেশের আইন শৃংখলা বাহিনী। হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন কয়েকজন শিক্ষক। তাদের অপরাধ, তিন দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন তারা। তাদের দাবি মেনে নেয়ার মতো কোনরকম মানসিকতা ধারণ করে না বর্তমান বাংলাদেশের অন্তরবর্তী সরকার।
সত্যি বলতে গেলে বর্তমানে সবচেয়ে কম বেতনে কাজ করছেন এই মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকগণ। বাজার সিন্ডিকেডের রমরমা সময়ের দ্রব্য মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে তাদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি অতি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। তাই তারা তাদের বেতন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছেন আন্দোলনে। আর তখনই মাথা নষ্ট হয়ে গেছে রাষ্ট্রীয় পেটুয়া বাহিনীর। মারমুখো হয়ে পুলিশ লাঠি তুলেছে শিক্ষকদের গায়ে।
মনে রাখতে হবে আমাদের দেশের অন্তরবর্তী সরকারের দায়িত্বে যিনি আছেন তিনিও একজন শিক্ষক। শুধু তাই নয়, বিশে^র অন্যতম সেরা বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে এসেছেন তিনি। আরো মোদ্দা কথা হলো তিনি শান্তিতে নোবেল পাওয়া একজন আন্তজাতিক ব্যক্তিত্ব। সেই সেরা ব্যক্তি, তিনি নিজে একজন শিক্ষক হয়ে শিক্ষকদের ওপর নির্যাতন, শিক্ষকদের অমর্যাদা করেন কিভাবে!
তবে হয়তো এটাই হওয়ার ছিল। কারণ অরাজনৈতিক ব্যক্তি যে দেশ চালাতে অক্ষম সে প্রমানটা তো দেশবাসী বা বিশ^বাসীকে জানাতে হবে। ইচ্ছে হলো আর আনাড়ী কাউকে ধরে এনে ক্ষমতায় বসিয়ে দিলাম। তার পরিণতিটা তো বোঝার দরকার আছে। তিনি (ড. মুহাম্মদ ইউনুচ) তা হাড়েনাড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছেন তার নিজের অজান্তে।
এরপর এমনও হতে পারে যে, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার আর বেশি দেরি নেই। এই মুহূর্তে ক্লাস বন্ধ থাকা মানে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক ক্ষতি। এ ক্ষতি কোনভাবেই পুরণ হবে না। অতএব ক্লাস বন্ধ রাখার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে প্রশাসন বা সরকারের কাছে জবাব চাইল। সেই সাথে অভিভাবকরাও নেমে গেল তাদের সন্তানদের সাথে। আটকে গেল রাজপথ। পলানোর আর কোনো পথ পেলো না বর্তমানের স্বৈরাচার। হয়ে যেতে পারে আরেকটা অভুত্থান। কিংবা হতে পারে সত্যিকারের বিপ্লব। তাহলে কী হবে! ভাবনাটা এখন গোটা জাতির। শিক্ষকদের মান বাঁচাতে হবে। শিক্ষার মান রক্ষা করতে হবে। জাতিকে সুশিক্ষার দিকে এগিয়ে নিতে হবে। তাহলেই দেশ বাঁচবে, জাতি বাঁচবে, সত্যিকারের বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা হবে। না হলে শিক্ষা এখন হুমকির মুখে পড়ে গেছে। তার মানে দেশ জাতির হুমকির মুখে। এ সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় কী হতে পারে তা নিয়ে এখন সমস্ত মুক্তিকামী মানুষের ভাবা ঊচিৎ।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply