সোহাগ সন্ধিঃ তপ্ত গ্রীষ্মে গাছে গাছে হলুদ উচ্ছ্বাস নিয়ে প্রকৃতিতে জারুল, লাল সোনাইল ও কৃষ্ণচূড়ার সঙ্গে ফুটে আছে সোনালু। মনে হয় প্রতিটি গাছের গা থেকে হলুদ ঝরনা নেমে এসেছে। গাছে হলুদ ফুলের ঝরনা দেখে মন ভরে যায়। যখন সব গাছে একসাথে ফুল ফোটে, তখন মনে হয় সোনালি আলোকচ্ছটায় চারপাশ আলোকিত হয়ে গেছে। ভারতের এবং বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে ও সড়ক-মহাসড়ক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বন-জঙ্গলে গ্রামীণ রাস্তার ধারে ছোট বড় সোনালু গাছ দেখতে পাওয়া যায়। ফুলের পাঁপড়ি পাঁচটি, মাঝে পরাগ দণ্ড। পাতা হাল্কা সবুজাভ, মধ্য শিরা স্পষ্ট। গাছের শাখা-প্রশাখা কম, কাণ্ড সোজাভাবে উপরের দিকে বাড়তে থাকে, বাকল সবুজাভ থেকে ধূসর রঙের, কাঠ মাঝারি শক্ত মানের হয়। ফুল থেকে গাছে ফল হয়, ফলের আকার দেখতে সজিনা সবজির আকৃতির, তবে সজিনার গায়ের চামড়াতে ঢেওতোলা সোনালু ফলে তা নেই চামড়া মসৃণ। ফল লম্বায় প্রায় এক ফুট, রঙ প্রথমে সবুজ ও ফল পরিপক্ব হলে কালচে খয়েরি রঙ ধারণ করে। ফলে বীজ হয়, বীজ থেকে বংশ বিস্তার ঘটে। গাছটি সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। কোনো কোনো অঞ্চলে সোনালু’র ফলকে বানর লাঠি হিসেবে চিনে বলে গাছটিকেও বানরলাঠি গাছ বলে বলে থাকে।
হলুদ ফুলের আভায় শোভিত শালিখা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়া-মহল্লাহ ও রাস্তার ধারে গ্রীষ্মের এই সময়ে সোনালু ফুলের সোনাঝরা রূপে মাতোয়ারা প্রকৃতি প্রেমিরা। তবে চলতে পথে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন গাছটি চোখে পড়লো শতখালী ইউনিয়নের কাদিরপাড়া গ্রামের খেয়াঘাটের এই গাছটি। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাওয়া এই সোনালু ফুল ক্ষণিকের জন্য হলেও থমকে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য প্রাণ খুলে উপভোগ করতে দেখা গেছে অনেক প্রকৃতি প্রেমিককে।
এ ফুলের আদিনিবাস হিমালয় অঞ্চল ধরা হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মায়ানমার অঞ্চল জুড়ে রয়েছে এর বিস্তৃতি। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এবং সড়ক-মহাসড়ক বিভিন্ন প্রতিষ্টনে বন জঙ্গলে গ্রামীণ রাস্তার ধারে ছোট বড় সোনালু গাছ দেখা যায়।
কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম দিয়েছিলেন অমলতাস। হিন্দিতেও একে অমলতাস নামেও ডাকা হয়। ইংরেজি ভাষায় একে বলা হয় গোল্ডের শোয়ার। তবে বাংলাদেশে অঞ্চল ভেদে নামেও রয়েছে ভিন্নতা। যেমন- কর্ণিকার, রাজতরু, দীর্ঘফল, স্বর্ণপুষ্প, সোঁদাল। সোনালু গাছের পাতা ও বাকল ভেষজগুণ সমৃদ্ধ, যা ডায়রিয়া ও বহুমূত্র রোগে ব্যবহৃত হয়। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি সোনালু গাছ উৎপাদনের জন্য উপযোগী স্থান।
Leave a Reply