একতা ডেস্ক: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে হিন্দু সম্প্রদায়ের (সনাতনী) দেওয়া আট দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন পরিষদ। শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি ঘর, উপাসনালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এবং ইসকন সম্পর্কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচারের প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার ভট্টাচার্য লিখিত বক্তব্যে বলেন, মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য পরিবেশন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৮ দফা দাবি নিয়ে যৌক্তিক আন্দোলন দমনে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, অবিলম্বে আট দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সারাদেশে বিভাগীয় পর্যায়ে বরিশাল, খুলনা ও রংপুরে আন্দোলনে যাবে। আমাদের আন্দোলন চলমান রয়েছে। তবে পরিস্থিতি বলে দেবে কখন কি করতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ জেগে উঠেছে। আমাদের আরো যেসব নেতারা রয়েছেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ বিগত সব সরকারের আমলেই নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সে সময়ও হিন্দু সম্প্রদায় কোন নির্যাতনের বিচার পায়নি। গত পাঁচ আগস্টের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা, মামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চলছে। আমরা ইতিমধ্যে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু কোন প্রতিকার পাচ্ছিনা। আমরা মনে করি অন্তর্বর্তী কালীন সরকার অবশ্যই হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের প্রতিকার করবে।
ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসাবে অভিহিত করা আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমার দেশ সম্পাদক ইসকন সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইসকন একটি অহিংস সংগঠন। তারা সাধু। বাংলাদেশরে স্বাধীনতার পরবর্তীকালে এ পর্যন্ত কোন সাধুর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। কিন্তু আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। এর আগে আমরা তাকে হুশিয়ার করেছিলাম এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে। কিন্তু তিনি আজ পর্যন্ত ক্ষমা চাননি। আমরা তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা আহ্বান জানাবো তিনি অবিলম্বে এই বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন। সেটি না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জে কে পাল, অধ্যাপক অশোক তরু, প্রধান সমন্বয়ক শ্যামল রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডক্টর মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায়, মানিক চন্দ্র সরকার প্রমুখ।
তথ্যসূত্রঃ সময়ের আলো

Leave a Reply