একতা ডেস্কঃ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবার শোনা যাচ্ছে মুহুর্মুহু গোলার বিকট শব্দ। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে টেকনাফ সীমান্তের ওপারে বিমান হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছিল এপারের মানুষের ঘরবাড়িও। এর ভয়ে ভীত হয়ে সীমান্তের কাছাকাছি মানুষজন ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। টেকনাফের জাদিমুড়া থেকে শাহপরীর দ্বীপ পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
টেকনাফ পৌরসভার বাসিন্দা কেফায়েরত উল্লাহ সীমান্তের কাছাকাছি জালিয়া পাড়ার বাসিন্দা। সে বলে, ‘রাতে হঠাৎ সীমান্তে পর পর দুটি গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। এতে ঘর থেকে লোকজন বেরিয়ে পড়ে। আমাদের মতো অনেকে ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় চলে আসে। এ ছাড়া সীমান্তে যুদ্ধ বিমান দেখা গেছে।’
স্থানীয় এক সরকারি কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অনেক দিন পর সীমান্তের খুব বেশি গোলার বিকট শব্দ পাওয়া গেছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাখাইনের পেরাংপুল ও আশিক্ক্যা পাড়া জান্তা সরকার যুদ্ধ বিমান নিয়ে হামলা করছে। মূলত আরকান আর্মির দখলে থাকা চৌকি উদ্ধারের সরকার নতুন করে হামলা চালাচ্ছে। ফলে নতুন করে সীমান্তে অনুপ্রবেশের শঙ্কাও বাড়তে পারে।’
এদিকে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার দায়ে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের নেতৃত্ব দানকারী সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) আবেদন করেছেন প্রসিকিউটররা। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে একটি রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগঠন পুলিশ পোস্টে হামলার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। সেনারা সে সময় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে উৎখাতে তীদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয় এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে। সহিংস সে অভিযানের ফলে প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন।
সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে আছে উল্লেখ করে বিজিবি টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ ইশতিয়াক মুর্শেদ বলেন, অনুপ্রবেশ রোধে সীমান্তে বিজিবি তৎপর রয়েছে।’

Leave a Reply