একতা ডেস্কঃ অতি অল্প সময়ের মধ্যে পর পর দুইটি নির্বাচন হয়ে গেল শ্রীলঙ্কায়। প্রথমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এককভাবে জয়ী এবং পরে পার্লামেন্ট নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভোট পেয়ে জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমার দিশানায়েকের বামপন্থি জোট নিউ পিপলস পাওয়ার (এনপিপি)। এর মধ্য দিয়ে এই দ্বীপরাষ্ট্রে যুগ যুগ ধরে চলে আসা রাজনৈতিক বন্দোবস্ত পালটে গেল। পুরোনো দলগুলো বলতে গেলে লাইমলাইট থেকে বিদায় হয়ে গেল। একসময়ের ছোট ফল জেডিপি নেতা অনুঢ়া এনপিপি জোটের হয়ে প্রেসিডেন্ট পদে জয় লাভের মধ্য দিয়ে দেশটিতে রাজনৈতিক ভূমিকম্পের সূচনা হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন অনুঢ়া। কিন্তু তখন পার্লামেন্টে তার নির্বাচনি জোট এনপিপির আসন ছিল মাত্র তিনটি। বিশ্লেষকরা বলেন, পার্লামেন্টে নিজ জোটের আসনসংখ্যা বাড়াতে তিনি আগাম নির্বাচন দেন। বলা যায়, যে লক্ষ্যে তিনি নির্বাচন আহ্বান করেন, তা সফল হয়েছে।
যাহোক, ১৮ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ ফল কী বার্তা দিচ্ছে? দেশকে স্থিতিশীল করতে কতখানি সক্ষম হবে নতুন সরকার?
২০২২ সালে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায় বহুগুণ। প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন দেশটির বিক্ষুব্ধ জনগণ। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে দেশ থেকে পালিয়ে যান। এরপর প্রেসিডেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে উল্লাস করে দেশটির জনগণ। মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই দৃশ্য। পদত্যাগ করেন তার ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। অবসান হয় রাজাপক্ষে যুগের। এর প্রায় দুই বছর পর গত সেপ্টেম্বরে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়। এতে জয়ী হন অনুঢ়া। শ্রীলঙ্কায় ২০২০ সালের আগস্টে পাঁচ বছর মেয়াদে পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়েছিল। সে হিসাবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক বছর আগে দেশটিতে আগাম পার্লামেন্ট নির্বাচন হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এনপিপি জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়।
এবারের নির্বাচনে এনপিপি জোট ৭০ লাখ অর্থাৎ ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় অনুঢ়া ৪২ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। এর অর্থ, তিনি সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে সব ধরনের ভোটারের সমর্থন তার জোটের পক্ষে টানতে পেরেছেন। তবে রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে আতশবাজি জ্বালানো ছাড়া এ নিয়ে তেমন উদযাপন করেনি দলটি। শ্রীলঙ্কার রাজাপক্ষে পরিবারের পছজানা পেরামুনা পার্টি এক দশকের বেশি সময় শ্রীলঙ্কার ক্ষমতায় ছিল। বিগত আইনসভায় তাদের ১৪৫টির বেশি আসন ছিল। কিন্তু এবারের পার্লামেন্টে দলটি প্রায় মুছে গেছে। দলটি মাত্র তিনটি আসন পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্লামেন্টে অনুঢ়ার জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন তার হাতকে শক্তিশালী করল। প্রেসিডেন্ট কার্যনির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী, কিন্তু অনুঢ়ার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা নিয়োগে পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন ছিল। এছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর তিনি প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র ক্ষমতায় রাশ টানার সুযোগ পাবেন। তিনি বিরোধী শিবিরে থাকার সময় এ নিয়ে প্রতিবাদ করে আসছেন।
বস্তুত, নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে সরকার গঠনের জন্যই প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া আগাম নির্বাচন দেন। এখন তার সেই আরাধ্য কেবিনেট গঠিত হলো। কিন্তু দেশকে সঠিক ধারায় ফিরিয়ে নিতে প্রেসিডেন্টকে পাড়ি দিতে হবে কঠিন পথ। সংখ্যালঘুরা তার পথের সাথি, সন্দেহ নেই। কিন্তু তার প্রকাশ কেন ঘটছে না, মার্কসবাদী প্রেসিডেন্টকে সেসব প্রশ্নের মুখেও পড়তে হতে পারে।

Leave a Reply