কবি পরিচিতিঃ
চট্টগ্রাম জেলার কানুনগোপাড়া সরকারি স্যার আশুতোষ কলেজ ক্যাম্পাসে জন্ম । বাবা অধ্যক্ষ অংশুমান হোর ( সাহিত্য ভারতী) । মা শোভনা হোর( গৃহিণী)। ছোট বেলা থেকে লেখালেখির জগতে। প্রথম লেখা আজাদী, সংবাদ। স্কুল, কলেজের ম্যাগাজিন, সাময়িকী, লিটল ম্যাগ ইত্যাদিতেও লিখে গেছেন। মাঝখানে অনেকদিন গ্যাপ। আশির দশকে আবার দৈনিক পূর্বকোণে নিয়মিত লিখেছেন। প্রথম গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে ২০১৭তে। প্রেম ও প্রকৃতি ( কাব্য গ্রন্থ) বন তুলসীর ঝাঁজ ( কাব্য গ্রন্থ) আমার সাতকাহন ( স্মৃতিকথা) কালবেলা( ছোট গল্প) কলকাতা থেকে কোমল গান্ধার ( কাব্য গ্রন্থ) পল্টুর ছোটকা ( কিশোর উপন্যাস) মজায় ভরা আমার ছড়া( শিশুতোষ ছড়া) পুরস্কার – পশ্চিম বঙ্গ,কলকাতার উতল হাওয়া থেকে কবি আলোকময় স্মৃতি পুরস্কার।
১। অস্তরাগ
কে গিয়েছে,
কে গিয়েছে বিকেল বেলার আঁচল ধরে অমনি
কালো ধোঁয়ার পাহাড় আসলো নেবে উঠোন পরে।
আলোর মেয়ের হলদে শাড়ি ঐ দেখা যায় গাছের পাতায়
পিছলে পড়া রিনিকঝিনিক সন্ধে বেলার সুর হয়ে যায়।
বুকের কাছে জমাট বাঁধা কষ্ট সুখের ওলটপালট
সন্ধে বেলার নিমন্ত্রনে আলোর প্রহর মারছে ঝাপট।
একটি দিনের ব্যথার বাঁশি বাজিয়ে কে যায় অস্তাচলে
আলো-ছায়ার সেই ছবিটি নিরব ভাষায় কথা বলে।
২। আকাশ
এসব কবিতা ছিল না শুধু কষ্টের সংলাপ।
যেকথা কাউকে বলতে পারিনি
শুধু নিজের ভেতরে জমিয়ে রেখেছি অনেক কাল।
একদিন তা অর্গল ভেঙে বেরিয়ে এলো।
তখন মনে হয়নি কবিতার নিয়মের কথা।
প্রয়োজন মানুষকে কতো কিছুই তো করিয়ে নেয়।
প্রয়োজন তো শুধু দেহের না, মনের বাইরেও যে
মন তাকে উপেক্ষা করতে পারিনি বলেই
নিজেকে আকাশ বানালাম।
আকাশেরও নিজস্ব ভাষা আছে।
যে বোঝে সেই তো আকাশের গান গায়
বৃষ্টি হয়ে শ্রাবণ শেষে প্রাণের মাঝে।
৩। কোমল গান্ধার
আমিও আমার মতো বেঁচে আছি
জানি তুমি বলবে সে কেমন?
আমি বলবো না, কিছুতেই না।
বললেই ফুরিয়ে যাবে অগুরু গন্ধ,
বিসমিল্লাহ খানের সানাইা
আর, আরও কিছু আছে
সেই জানার জন্য তোমার
আরেক জন্ম পেতে ইচ্ছে করবে আনন্দ
আমাদের দেখা হবে কথা হবে জন্মের সিঁড়িঘরে।
৪। ভুল
ধরো আমি ভুল করে বলেছিলাম তোমাকে সে কথা
তারপর আমাদের আর দেখাই হলো না চল্লিশ বছর।
এই চল্লিশ বছর আমার কেমন কেটেছে তুমি জানলেই না।
আমি ভুলটাকে নিয়ে বেঁচে ছিলাম অসহ্য যন্ত্রণায়
এটাও তো ভাবতে পারতাম তোমার মনেই নেই আদৌও
নিজস্ব পৃথিবীতে সবাই হয়তো নিজেকেই ভাবে সারা সময়
ধরো চল্লিশ বছর পর আবার আমাদের দেখা হলো সেদিন
ভুলের মাশুল দিতে চল্লিশ বছর পর সত্যিই দেখা হয়েছিল
আমার আবারও ভুল হয়েছিলো।
৫। দুঃখ
অনুচ্চ সুরে কেউ আমাকে ডাকলো
আমি ফিরে তাকালাম কেউ নেই
আজকাল আমার এমনই হচ্ছে
অথচ গত চল্লিশ বছর ধরে কেউ
আমার নাম ধরে ডাকেনি!
নিজের নামের সাথে এই যে দূরত্ব
সে নিয়ে একসময় খুব দুঃখ পুষে রাখতাম বুকের খাঁচায়
আজকাল আর দুঃখ হয় না এসবে।
কারণ আমার বুঝে নিতে হয়েছে
এর চাইতেও ভয়ংকর দুঃখ যেটা
মানুষ বলে নিজেকে প্রমাণ করা।
Leave a Reply