অপরের মঙ্গলের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার উদাহরণ অরেক রয়েছে ধর্মীয় গ্রন্থে। যারা এমন করেছেন তারা অবশ্যই দেবতুল্য। অপর মানে তারা বিশেষ এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মঙ্গল করেননি। তারা সমগ্র মানবজাতির মঙ্গল কামনায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাই আজ তারা সর্বজন পূঁজিত। তবে এমন কাউকে কেউ কি দেখেছেন কোন এক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মঙ্গল চেয়ে তার নিজের জন্য শুধু নয় জাতির জন্য শনি ডেকে এনেছেন?
বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত। সেদেশে হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তি। এর পেছনে কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়া এবং তার পক্ষ নিয়ে অপতথ্য প্রচার করে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা। এ প্রক্রিয়ার হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন সাম্প্রদায়িক উস্কানির পথ। দেশের যুবসমাজকে ক্ষেপিয়ে দিলেন সাম্প্রদায়িক সুঁড়সুড়ি দিয়ে। আর নিজের রাষ্ট্রসংঘ রাখলেন বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারে।
প্রতিবেশি ও বন্ধুরাষ্ট্র বাংলাদেশ আস্তে আস্তে দূরে সরে যাচ্ছে ভারতের সংস্পর্শ থেকে। এর আগেই আশপাশের বন্ধুরাষ্ট্রগুলো ভারতের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে। নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ দেশগুলো খুবই ঘনিষ্ট ছিল ভারতের। তারা সরে পড়েছে। চীনের সাথে সীমান্ত সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় আসার পর সেদেশও সরে গেল ভারতের পাশ থেকে। অবশেষে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সাথে। আবার ভারতের গণমাধ্যমগুলোও বলছে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতের নেতিবাচক ভূমিকার কথা। মূলতঃ এ বিষয়টি নিয়েই বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে খোদ ভারতেই।
ভারতের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বুদ্ধিজীবিরা ভারত প্রশাসনের বিরোধীতা শুরু করেছে। উগ্র সম্প্রদায়িক শক্তিকে উস্কে দেয়ার কারণে তারা বুঝতে পারছেন মোদীচেতনায় হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য কাজ করছে। এজন্য তারা দেশবাসীকে সজাগ থাকাতে বলছেন এবং বিভিন্ন কর্মসুচী দিয়ে তারা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিস্তার ঘটানোর প্রয়াস করছেন।
এখন আবার সেই কথাই বলতে হয়। বাংলাদেশের শেখ হাসিনার মঙ্গল করতে গিয়ে নিজের কপালে শনি ডেকে আনলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র দামোদার মোদী। বাংলাদেশ নিয়ে এত মাতামাতি করার আগে তার অন্তত এটা ভাবা উচিৎ ছিল যে, দেশের মানুষ যাকে প্রত্যাখ্যান করেছে তার পক্ষ নিয়ে সাফাই গাওয়া কতটা মঙ্গল বয়ে আনতে পারে। তা যখন ভাবেননি। এখন সবকিছু নিজেকেই সামলাতে হবে। তবে মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ ভারত দুই দেশের মানুষই সম্প্রীতি চায় বিভাজন নয়।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply