একতা ডেস্কঃ চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১৬ নম্বর করায়নগর এলাকার সন্তান চন্দন কুমার ধর। তার বাবা ছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার আশুতোষ ধর এবং মা সন্ধ্যা রানী ধর। চন্দনের জন্ম ১৯৮৫ সালে, আর সেদিনই তার বাবা মারা যান। অকালে বাবার মৃত্যুর কারণে ছোটবেলা থেকেই সমাজের একটি অংশ তাকে কুসংস্কারের শিকার করে এবং “অপয়া” বলে কটাক্ষ করা হয়। শৈশবে চন্দন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং আত্মপ্রত্যয়ী। কিন্তু সমাজের অবজ্ঞা এবং পারিপার্শ্বিকতার কারণে তার মানসিকতায় পরিবর্তন আসতে থাকে। একসময় তিনি চট্টগ্রামের বন্দরনগরীতে পাড়ি জমান।
চট্টগ্রামে এসে চন্দন কুমার আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর সংস্পর্শে আসেন। সংগঠনের ভাবধারা এবং সন্ন্যাসজীবনের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তিনি গেরুয়া বসনে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। সন্ন্যাসী জীবনে তার নতুন নাম হয় চিন্ময় কুমার দাস ব্রহ্মচারী। ইসকনে যোগদানের পর চিন্ময় কুমার দাস তার উগ্র সাংগঠনিক ক্ষমতা দিয়ে দ্রুতই নজরে
আসেন। তার ধর্মীয় শিক্ষা, দীক্ষা এবং নেতৃত্বগুণের কারণে তাকে ইসকনের সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। তিনি ভক্তদের কাছে পরিচিত হন চিন্ময় প্রভু’ নামে।
তিনি তার কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হন। চট্টগ্রামের প্রবর্তক মন্দির তার নেতৃত্বে ইসকনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। তিনি তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন, ৫ ই আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাবার পর। নীল নকশা আটে দিল্লি, এবং দিল্লির ষড়যন্ত্রে শামিল হয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার খেলায় মগ্ন হয়ে ওঠেন এই যোগ নেতা, মানুষকে বিভিন্ন ভুলভাল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে সমাবেশ এবং মিছিল করেন চট্টগ্রামে।
সর্বশেষ তার কর্মকাণ্ডে তিনি পতাকাকে অবমাননা করেন এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক মন্তব্য দেয়ার পরে তিনি গ্রেফতার হন। গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি পরিণত হয়েছেন।

Leave a Reply