কবির পরিচয়ঃ
কবি হাসানুল হক তুষার মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলাধীন পোড়াগাছি গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৮৬ সালের ৩১ মে। তার পিতা বজলুর রহমান ও মাতার নাম পারভিন সুলতানা। তিনি উপজেলার আড়পাড়া সরকারী আইডিয়াল হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক(এসএসসি) এবং আড়পাড়া ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি), দুইটাই শিক্ষা বোর্ড যশোরের অধীনে বিজনেস স্টাডিজ গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ হন। তিনি ব্যাচেলর ইন বিজনেস স্টাডিজ এবং মাস্টার্স ইন বিজনেস স্টাডিজ সার্টিফিকেশনে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর ও সরকারি তিতুমির কলেজ, ঢাকা থেকে বিষয় অ্যাকাউন্টিং-এ। তিনি ডিসিসিআই বিজনেস ইনস্টিটিউট (ডিবিআই) এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) দ্বারা যৌথভাবে জারি করা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য (রপ্তানি ও আমদানি) ব্যবস্থাপনায় মাস্টার অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ফাইন্যান্স), স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (আইবিএ) সাপ্লাই চেইন অ্যান্ড লজিস্টিকসে এমডিপি সার্টিফিকেট অর্জন করেন।
কবিতার সঙ্গে আমার যাত্রাঃ
২০১১ সালে, ব্লগ শুরু করে তিনি কবিতার প্রতি ভালোবাসা ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পাঠকদের সাথে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার জন্য ছন্দ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের অনুভূতি এবং বিষয়বস্তু অন্বেষণ করেন, যা মানবিকতা, দার্শনিক চিন্তা, রোমান্টিক ও মর্মস্পর্শী, অতীতের স্মৃতি, বিরহ, ব্যথা, পূর্ণতা, বাংলার সবুজ গ্রাম, শ্যামল নদী, মনোমুগ্ধকর মৌসুম, প্রকৃতির রূপ, বাঙালি জাতীয়তাবোধ ও দেশপ্রেমের ইতিহাস, সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সমাজের নানা চিত্র – দারিদ্র্য, অশিক্ষা, অবিচার, নারী নির্যাতন, ব্যক্তিগত অনুভূতি গুলো কবিতায় ফুটে ওঠে।
সংবাদ মিডিয়া প্রকাশনাঃ
১। “আমরা সবাই অভিনেতা”
২। “প্রতিটি রং, একটি গল্প”
৩। “শব্দের শক্তিতে, সত্যের আলো”
৪। “জীবনের রহস্য”
৫। রমজানের আলোয়
৬। মানবতার প্রদীপ
৭। অবিরাম এক আকাঙ্ক্ষা
পুতুল নাচ
নীল সুতা কেশ পুতুল নাচে মঞ্চে,
রঙিন কাপড়ে ঢাকা কাঠেরই দেহ
হাতে সুতোর টান সুরের তালে,
নীরব পুতুল নাচে সুতোয় ধরা হাত ধরে।
রাজা রানী সাধু বণিক কৃষক,
নানা চরিত্রে মুখরিত হয় মঞ্চক।
হাসি কান্না রাগ বিষাদ সবই প্রকাশ,
পুতুলের নাচে মুগ্ধ দর্শক মুগ্ধ আকাশ।
ছোট্ট ছেলেমেয়ে হাসে খেলে,
তালি দেয় পুতুলের নাচে।
বুড়ো মানুষের চোখে জল,
স্মৃতি জাগে অতীতের সাথে।
পুতুল নাচ এক ঐতিহ্য,
বাংলার মনের নিবিড় বন্ধন।
পুতুল নাচবে চিরকাল,
মুগ্ধ করে দিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
পুতুলের নাচে দেখি জীবনের কথা,
সব জীবন্ত করে দেয় এই নাটকে।
সুতোর বন্ধনেই বাঁধা তার জীবন,
অদৃশ্য হাতে খেলা, স্বাধীনতা বিলুপ্ত।
নাচে পুতুল নিজের ইচ্ছা নেই যেখানে,
নিয়ন্ত্রণের বন্ধনে স্বপ্ন হয় ধূসর।
কিন্তু আশা রাখি, একদিন হবে মুক্তি,
সুতো ছিন্ন হবে, পাবে স্বাধীনতা নিশ্চিতি।
শূন্যতার অপেক্ষা
সাদা আকাশে নিচে বসে আছি অপেক্ষায় তোমার,
নিঃশব্দ বাতাস নিদ্রাহীন চোখ ম্লান ঘাস,
শূন্য জগতে কোনো সাড়া নেই শুধু তোমারই আশা।
ক্ষীণ সূর্যের আলোয় মুছে যায় দূরের সীমানা,
বিশ্ব যেন থমকে দাঁড়িয়েছে, শুধু আমারই কান্না।
পাখির ডাক নেই ফুলের গন্ধ নেই শুধু এই নিস্তব্ধতা,
এই অবিরাম অপেক্ষা এই হৃদয়ের ব্যথা।
একা থাকা অভ্যাস হয়নি কিন্তু তোমার অপুর্ণতায় জ্বালায়,
জীবনটাই থেমে গেছে কোনো রঙ নেই কোনো গান নেই।
এসো এই শূন্যতাকে ভরে দাও এই নিঃশব্দতাকে ভাঙো,
আমার হাত ধরে রেখো এই অপেক্ষার অবসান করে দাও।
আকাশের এই সাদা মুক্ত বিস্তৃত জায়গাটা কতটা পরিচিত ছিল,
কখনো লক্ষ্য করিনি এখন শুধু নিঃসীম নিঃসঙ্গতা,
যেন বিশ্বের সব রঙ এক নিমেষে বিলীন হয়ে গেছে।
দূরের পাহাড়ের চূড়াগুলো ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়,
সূর্যের শেষ আলোয় ম্লান হয়ে যায়।
এই মহাশূন্যতা জুড়ে শুধু আমারই অপেক্ষার নিঃশব্দ চিৎকার।
এই অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত যেন যুগের মতো দীর্ঘ
মনে পড়ে এই আকাশের নিচে তোমার হাত ধরে কত দূর হেঁটেছি।
তখন পাখির ডাক ফুলের সৌরভ,
সূর্যের উষ্ণতা সবকিছুই মিলে এক অপূর্ব সুরতাল তৈরি করত
এখন শুধু নিঃশব্দতা, যেন এই জগতের সব শব্দ আমার জন্য থেমে গেছে।
এসো এই নিঃশব্দতা ভাঙো তোমার কণ্ঠের স্বরে পায়ের আওয়াজে,
হৃদয়ের স্পন্দনে এই নিথর জগতকে জীবন্ত করে তোলো
ফিরিয়ে দাও সেই রঙিন দিনগুলো সেই গান সেই কথামালা।
আমার হাতে তোমার হাত এই অপেক্ষার অবসান,
এই নিঃসঙ্গতা সব মুছে যাক তোমার আলোয়।
অবৈধ টাকার উত্তাপ বেশি
অবৈধ টাকার উত্তাপ বেশি
স্বপ্নের শহরে হঠাৎ বৃষ্টি
স্বার্থের ছায়ায় লুকায় আশা
নীল আকাশে মেঘের বাধা।
ধোঁয়াটে পথে স্বর্ণের প্রলোভন
আলো আঁধারে পথ হারানোর চোরাগলি
ইচ্ছের পাখির ডানা বাঁধা
সাদা-কালো রাত ঘিরে বিপন্ন জ্যোতি।
হৃদয়ে জ্বলছে নীরব আগুন
অবৈধ পথে তবু চলছে কাফেলা
যেখানে টাকার গন্ধ মাখা
সেখানে নীতি হারায় নিজস্ব পরিচয়।
অবৈধ টাকার উত্তাপ বেশি
মলিন করে দেয় জীবনের রঙ
জীবনের সত্য যেখানে বন্দী
তবু মানুষ লোভেরই রঙে আঁকে স্বপ্ন।
Leave a Reply