একতা ডেস্কঃ সাবেক জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তার ছেলে ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ দুদকের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, উপ-পরিচালক কমলেশ ম-ল ও সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম বাদী হয়ে এসব মামলা করেন।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, তিনটি মামলাতেই বিপুকে আসামি করা হয়েছে। তার ছেলে জারিফ হামিদ (৩৩) ও স্ত্রী সীমা হামিদ একটি করে মামলায় আসামি হয়েছে। মোট ৬৪ কোটি ১৮ লাখ ৯৯ হাজার ৫৮৯ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৩ হাজার ২২১ কোটি টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিং করেছেন বলেও মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় বলা হয় প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে তিনি অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ ৩৬ কোটি ৩৬ লাখ ৯৯ হাজার ৬৫৭ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এ ছাড়া তার নিজ নামে ৯৮টি ব্যাংক হিসাবে ৩ হাজার ১৮১ কোটি ৫৮ লাখ ৮৩ হাজার ৩১৩ টাকা জমা এবং মোট ৩ হাজার ১৮০ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৯ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ করেছেন। মামলায় আসামি বিপুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। ছেলে জারিফ হামিদের বিরুদ্ধে মামলায় বলা হয় জারিফ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বাবার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসঙ্গতিপূর্ণ ২০ কোটি ৮৭ লাখ ৬৬ হাজার ২০ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। এ কাজে সহায়তার জন্য এ মামলায় বিপুকেও আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া জারিফ নিজ নামে ২০টি ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনকভাবে ২৭ কোটি ৭১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩১ টাকা জমা এবং পরবর্তীতে ১৭ কোটি ৪০ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯৭ টাকা উত্তোলন করেন। তিনি অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ করেছেন।
সীমা হামিদ আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য স্বামী বিপুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৯৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেছেন। এ ছাড়া সীমা হামিদ নিজের নামে ২০টি ব্যাংক হিসাবে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৯ টাকা জমা এবং ১১ কোটি ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮১৮ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করে মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ করেছেন। এই দুই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দ-বিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
Leave a Reply