পুড়েছে, না কি পোড়ানো হয়েছে। এটি একটি বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশ ও জাতির সামনে। বলা হয়েছে শট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে। সচিবালয়ের ব্যাপারে এ যুক্তিটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না। কারণ দেশের সর্বোচ্চ কার্যালয়ে শট সার্কিট ঘটতে পারে এমন পরিস্থিতি তদারকির জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা কর্মীরা রয়েছে। তারা এটি ঠিকমতো দেখভাল করেনি এ দায়ভার দেশের সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে না। এ দায়ভার কর্তৃপক্ষের ওপরই বর্তায়। তারপরও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে এটি অবশ্যই শট সার্কিটের আগুন নয়।
ফায়ার সার্ভিসের কথা শতভাগ সত্য। এ আগুন কেউ না কেউ জেনে বুঝে লাগিয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, কেনই বা এই আগুন লাগাতে যাবে কেউ? জবাবও মিলে যাবে সাথে সাথে। এখানে সারাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নথিপত্র জমা থাকে। কোথায় কোন নথিতে কার অপকর্মের প্রমাণ রয়েছে তা নষ্ট করার জন্য এ আগুন অবশ্যই লাগাতে পারে কেহ বা কাহারা। এখন আবারো প্রশ্ন আসতে পারে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যে সব অপকর্মগুলো হয়েছে সেগুলো তুলে ধরা এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেয়াই তো এ সরকারের কাজ। তাহলে সে সব নথি পোড়াবে কেন এরা? তাছাড়া সচিবালয় থেকে তো আওয়ামী পন্থী কর্মকর্তাদেরকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে নথিগুলো নষ্ট করবে কে?
এ প্রশ্নেরও জবাব দিতে সময় লাগবে না। তা হলো এটি হতে পারে নতুন পাপীদের পাপ ঢাকার চেষ্টা। কারণ, কেউ ধোয়া তলসীপাতা বা ধর্মরাজ যুধীষ্ঠির না। তাছাড়া পুরনো পাপের ভাগ নিতেও কেউ এমন ঘটনা ঘটাতে পারে। উন্নয়নের নাম করেই তো লুটপাট করে। সেই উন্নয়ন তো চলছেই। লুটপাট যে থেমে আছে তা তো আর বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। কিংবা পলাতক শেখ হাসিনার সাথে সাথে লুটপাটও যে পালিয়ে ভারতে চলে গেছে এটিও বিশ্বাস করার কোন কারণ নেই। বরং নতুন রূপে নতুন ভঙ্গিতে লুটপাট শুরু করার একটি অভিনব উপায়ের উদ্ভব হচ্ছে কি না, এটি একটি ভাবান্তর বিষয়।
মিলন কুমারের দগ্ধ মৃতদেহের সাথে সচিবালয়ের আটতলায় একটি কুকুরের পোড়াদেহও পাওয়া গেল। নিঃছিদ্র পাহারারত এলাকায় ঢোকা এই কুকুরের পক্ষে সম্ভব হলো কী করে! এর জবাব একটাই হতে পারে, কেউ তার কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে কুকুরটিকে ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলো। আর অবশ্যই তা নিরাপত্তা কর্মীদের কারো না কারো চোখে পড়ার কথা। দেশের মানুষ আজ প্রশ্ন তুলছে আমরা কী চেয়ে কী পেলাম! দেশের মানুষ শান্তি চেয়েছিলো, আগুন চায়নি। মানুষ বলছে, এ আগুনের উৎস কোথায়, তা ঝুঁজে বের করা হোক। আগুনের অবসানের সাথে সাথে অপকর্মের প্রত্যেকটি হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।
সাধারণ মানুষ আরো সংশয় প্রকাশ করে হিসাব কষতে শুরু করেছে এর চেয়ে আওয়ামী লীগই কি ভাল ছিল? এটি একটি ভয়ানক লজ্জাজনক বিষয়ক। পরাজিত শক্তি যদি একবার গণমানুষের মনে জায়গা করে নিতে পারে খেলা ঘুরে যাবে নিমেষেই। ধ্বংসাত্মক খেলায় মেতে উঠবে দেশ। শেষ হয়ে যাবে বাঙালির সমস্ত গৌরব। আগেই তারা উন্নয়নের নাম ভাঙিয়ে গণতন্ত্রকে নর্দমায় ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলো। সেই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আবু সাঈদসহ প্রাণ গেল অগণিত মানুষের। তাদের রক্তে ভেজা মাটিতে দাঁড়িয়ে অপশক্তির সহযোগিতায় কাজ করলে আবারো আমাদের নাম লেখা হবে বেঈমানের তালিকায়।
অতএব, সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি ছোট করে দেখার কোন কারণ নেই। সর্বশক্তি দিয়ে এর রহস্য উদ্ঘাটন করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া অবশ্যই জরুরী হয়ে উঠেছে। কে বা কারা এর পেছনে আছে তা অতি দ্রুত জাতির সমানে তুলে ধরা অতি প্রয়োজন।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply