একতা ডেস্কঃ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলায় কৃষ্ণনগর গ্রামের গৃহবধূকে ভারতে পাচার মামলায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলীমুজ্জামান। আসামিরা হলো, ঝিকরগাছার কৃষ্ণনগর গ্রামের রেজাউল সরদার ছেরুর মেয়ে পাপিয়া খাতুন, ছেলে নুর, আব্দুল মালেক ও তার স্ত্রী সাথী বেগম ওরফে সায়রা, ও যশোর শহরের ইসহক সড়কের আজিজুর রহমানের স্ত্রী পিয়া।
জানা গেছে, ওই গৃহবধূর স্বামী ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। অভাবের সংসারে আসামি পাপিয়াসহ অন্যরা তার স্ত্রীকে ভারতে ভালো বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি হলে ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি আসামিরা ওই গৃহবধূকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। ভারতে পৌঁছে ওই গৃহবধূ তার স্বামীকে জানায়, সে পাপিয়ার সাথে আছে। মাঝেমধ্যে ওই গৃহবধূর সাথে বাড়ির লোকজনদের মোবাইলে কথা বলিয়ে দিত পাপিয়া। পাপিয়া প্রতিমাসে ৪/৫ হাজার টাকা পাঠাতো গৃহবধূর স্বামীর কাছে। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর গৃহবধূ বাড়িতে ফোন করে জানায়, তাকে আসামি পাপিয়া মহারাষ্ট্রের একটি নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি করে দিয়েছে। পরে খোঁজখবর নিয়ে যশোরের একটি মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে নিষিদ্ধ পল্লী থেকে পুলিশের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে ওই সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ৫ জনকে আসামি করে ঝিকরগাছা থানায় মানব পাচার দমন আইনে মামলা করেন। এ মামলার তদন্তকালে আটক আসামিদের দেয়া তথ্য ও সাক্ষীদের দেয়া বক্তব্যে ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটে অভিযুক্ত পাপিয়া ও পিয়াকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

Leave a Reply