সোহাগ সন্ধিঃ মাগুরা জেলা সদর ও শালিখা উপজেলার সীমান্তবাহী ফটকী নদী। উপজেলার কুয়াতপুর ও সোনাকুঁড় পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে পশ্চিমে উনপঞ্চাশ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী। এ নদীর উজান বাঁক তথা আড়পাড়া থেকে শুরু করে পশ্চিমে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত চর পড়ে ধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে।
তারপরও কয়েক বছর ধরে বছরের শুরুতে ভরপুর বর্ষা না হলে এপ্রিল মে মাসের দিকে নোনা পানি উঠে আসে ভাটি এলকার চিত্রা নদী থেকে। ফলে মাগুরা সদর ও শালিখা উপজেলার নদী সংলগ্ন হাজার হাজার একর জমির ফসল নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে নদীর পানিতে চাষ হওয়া মাঠের জমিগুলোতে।
এ বিষয়ে উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সম্পৃক্ত পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশনের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে নোনা পানি ওঠা বন্ধ করা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আর এই বন্ধ করার উপায় হলো সুইজগেট। এসোসিয়েশান কর্মীদের সাথে নিয়ে কুয়াতপুর নদী সঙ্গমস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেছে সোনাকুঁড় ব্রিজের জায়গায় যদি একটি ফ্লুইজগেট করা যায় তাহলে ফটকী নদীতে নোনা পানি ওঠা বন্ধ করা সম্ভব।
এপ্রিল, মে মাসের দিকে যখন নোনা পানি ওপরে উঠে আসে তখন গেট নামিয়ে জোয়ার ওঠা বন্ধ রাখতে হবে। তারপর ভরপুর বর্ষায় উজান বাঁকে পানির চাপ থাকবে। তখন আর নোনা পানি উঠতে পারবে না। এতে করে নদী সংলগ্ন সমস্ত মাঠের ফসল নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
স্থানীয় কুয়াতপুর নিবাসী অজিত রায় বলেন, নদীর চর এবং নিচু এলাকার জমিতে কোন ফসলই ফলাতে পারি না আমরা এই নোনা পানির কারণে। সুইজগেট দিয়ে যদি এটা বন্ধ করা যায়, তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।
উপজেলার দীঘলগ্রামের মোঃ গোলাম নবি শিকদার বলেন, আমরা সাধারণত যেসব ফসল ফলাই, এসব ফসল নোনা পানি সহ্য করতে পারে না। হঠাৎ করে নোনা পানি আসা শুরু করেছে, এতে এসব ফসলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি আমরা। অবশ্যই এর প্রতিকার দরকার।
মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় নিবাসী আনছার মোল্যা বলেন, নোনা পানি আমাদের মাঠের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এই নোনা পানি ওঠা অতি দ্রুত বন্ধ করা দরকার।
দীঘলগ্রাম পানি ব্যবস্থাপনা এসোসিয়েশানের সভাপতি নিখিল রঞ্জন মিত্র বলেন, আমরা এ ব্যাপারে উপজেলার চাষিদের সাথে সংযোগ করছি। তাদের সাড়াও পাচ্ছি। আমরা তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আবেদন করবো। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয়েও আবেদন পাঠাবো। এলাকার এই সামষ্টিক সার্থে তারা সর্বস্তরের সহযোগিতা কামনা করছেন।

Leave a Reply