একতা ডেস্কঃ সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আজ নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। দুই বছর আগে নেপালকে হারিয়েই সাফের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কাঠমান্ডুতে তাই আরো একবার শিরোপার স্বাদ নিতে চায় দল। ফাইনালকে সামনে রেখে গতকাল শেষবারের মতো নিজেদের ঝালিয়ে নেন ফুটবলাররা। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাতীয় দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও হেড কোচ পিটার বাটলার। বাংলাদেশ সময় ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে।
গতকাল দুপুরে কাঠমান্ডুতে ট্রফি নিয়ে ফটোসেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাবিনা খাতুন বলেন, সফরকারী হিসেবে খেলার চাপ তো অবশ্যই থাকবে, আমাদের দলে অনেক সদস্যই নতুন। ভিন্ন পরিবেশে স্বাগতিকদের মাঠে ভালো খেলাটা চ্যালেঞ্জিং হবে বলে আমি মনে করি।’ তিনি আরো জানান, ‘তবে আমি মনে করি নেপালের জন্যও কঠিন হবে লড়াইটা। ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে পারফর্ম করার চাপ অনুভব করবেন তারা। হোস্ট হওয়ায় একটা বাড়তি চাপ কাজ করবে তাদের মনে।’ তবে অভিজ্ঞ সাবিনা বলছেন চাপ নয়, তিনি বরং ফাইনাল খেলাটা উপভোগ করতে চান নিজেদের সেরাটা দিয়ে। ফাইনালে একটি ভালো ম্যাচ উপহার দেয়ার কথাও জানান তিনি। গতকাল ম্যাচকেস সামনে রেখে এক ঘণ্টার অনুশীলন সেশন পার করেন সাবিনারা। তিনি জানান, আমরা মাঠে নামার আগে কোনো কমতি রাখছি না নিজেদের। ম্যাচে যাই ঘটুক না কেন, ফোকাস ঠিক রেখে জয় বের করে আনাটাই মূল লক্ষ্য সাবিনাদের। এদিকে কোচ পিটার অবশ্য টিম গেমের দিকে অধিক মনোযোগ দিতে বলেছেন। দল হিসেবে পারফর্ম করলে জয় তুলে নেয়া কঠিন হবে না বলে জানান তিনি। তাই মাঠের এগারজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকেই সেরাটা বের করে আনতে চান তিনি। এর আগে ভুটানের বিপক্ষে জয়ের পর অনুশীলন করেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। জিমে অনুশীলন, সুইমিং ও রিকভারি সেশনে নিজেদের ফাইনালের জন্য প্রস্তুত করেন তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে হতাশার ড্র দিয়ে এবারের মৌসুম শুরু করেছিল সাবিনারা। কিন্তু দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দ্বিতীয় ম্যাচে। সাফের পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় তারা। সেমিতে ভুটানকে পাত্তাই দেয়নি তারা। তহুরার হ্যাটট্রিকের সুবাদে ৭-১ গোলের বড় জয় পায় তারা।
পরিসংখ্যান এবং ইতিহাস দুটোই এখন বাংলাদেশের মেয়েদের পক্ষে, এছাড়া অনুকূলে রয়েছে সাবিনাদের পারফরম্যান্সও। ভুটানকে যেখানে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ঋতুপর্ণা-তহুরারা, সেই ভুটানের বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়েছে নেপাল। গ্রুপ পর্বে অবশ্য বাকি দুই ম্যাচে মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারায় তারা। সাবিনাদের বিপক্ষে হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে নেপালের মেয়েরা চাইবে গত আসরের ফাইনালের হারের প্রতিশোধ নিতে। গতবার ফাইনালে প্রথমে গোল হজম করেও নেপালের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-১ গোলে জিতে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। এদিকে সাবিনাদের কোচ পিটার জেমস বাটলার সব সময় রহস্য রাখতে পছন্দ করেন। সেরা একাদশ নিয়ে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে ফাইনালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গত আসরে মাঝমাঠে আক্রমণের সুর বেঁধে দেয়া মারিয়া মান্দা ও মনিকা চাকমার কাঁধেই উঠবে গুরুভার, তবে সবকিছুর জন্যই নিজেদের তৈরি রাখছেন মিডফিল্ডাররা। দুজনে আলোও ছড়ান বরাবরের মতো। এবারের আসরে মাঝমাঠে নিয়মিত খেলে, একের পর এক আক্রমণের সুর বেঁধে দেয়া মনিকা বলেন, নেপালের বিপক্ষে তিনি খেলতে চান সহজাত ফুটবল। মাঠের বাইরের কোনো কারণে হারাতে চান না মনোযোগ।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য শেষটা ভালো করা। সে লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামব। পাকিস্তানের বিপক্ষে ড্রয়ের পর আমরা মাঝমাঠে উন্নতি করেছি, ভারতকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছি। ফাইনালেও কোচের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারব আমরা, আমাদের মনোযোগ হারালে চলবে না।’
ফাইনালের টার্গেট নিয়ে মুখে ছিপি বাংলাদেশ কোচের। আর্মি হেডকোয়ার্টার্স গ্রাউন্ডে প্রস্তুতি মাঝমাঠের ছক পুরোপুরি খোলাসা করেননি কোচ। তবে মারিয়া জানান, গত সাফেও আমরা দুজনে মিলে মিডফিল্ড সামলিয়েছি। যখনই সুযোগ পাব, সেরাটাই দিব, যাতে আবারো চ্যাম্পিয়ন হতে পারি আমরা।’
অন্যদিকে জাতীয় দলের আক্রমণভাগের খেলোয়াড় সানজিদা জানান, ‘আগেরবার যেটি ছিল প্রথমবার অর্জনের চেষ্টা, সেটিই এবার ধরে রাখার মিশন। দায়িত্ব বেড়েছে। স্বাগতিক প্রতিপক্ষ, সেই প্রতিপক্ষের মাঠ, আবার সেই প্রতিপক্ষের চেনা দর্শকদের সামনে আমরা খেলতে যাচ্ছি। অবশ্যই সেটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জের। তবে আমরা সদা আত্মবিশ্বাসী ও দেশমাতৃকার নিকট প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেশের সংস্কার ও নতুন জাগ্রত কর্মকাণ্ডের প্রেরণা দিতে আমাদের ভালো করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ট্রফি ধরে রাখার মিশন ও দেশবাসীর আরেকবার উদযাপনের উপলক্ষ হতে আমরা এটি জিততে চাই।’
তথ্যসূত্রঃ ভোরের কাগজ

Leave a Reply