একতা ডেস্কঃ যুদ্ধকালীন অভিযুক্ত দুই ইসরায়েলি সৈনিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভয়ে নেদারল্যান্ডস ছেড়ে পালিয়েছেন। এ ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর আকর্ষণ করেছে। কারণ তারা ফিলিস্তিনপন্থি সংগঠনগুলোর চাপে পড়েছিলেন। তাছাড়া তাঁদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, ফিলিস্তিনপন্থি একটি সংগঠন তাদের শনাক্ত করে এবং তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করার পরই তারা আমস্টারডাম থেকে পালিয়ে ইসরায়েলে ফিরে যান। ইসরায়েলি জেনোসাইড ট্র্যাকার গত সোমবার তাদের ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছে, এই সৈন্যরা গাজায় গণহত্যার সময় অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁরা জাবালিয়া এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের অপহরণ করেছিল এবং তাদের সঙ্গে সেলফি তুলেছিল। এই ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দ্রুত তাদের নেদারল্যান্ডস থেকে সরিয়ে নিয়ে ইসরায়েলে ফেরত পাঠায়।
ওই সৈন্যদের নেদারল্যান্ডসে যাওয়ার অনুমতি ছিল, তবে যখন তাদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেনাবাহিনী তাদের দ্রুত দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে তাদের গাজা যুদ্ধ সম্পর্কিত সমস্ত ফুটেজ মুছে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়। ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে বিচারের ভয় থেকে তাদের সৈন্যদের বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করেছে। গত জানুয়ারিতে, গাজার যুদ্ধের কারণে ব্রাজিলে পালিয়ে যাওয়া এক ইসরায়েলি সৈন্যের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল। ১৯ জানুয়ারি থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি আক্রমণ এবং অবরোধ এখনও ফিলিস্তিনিদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের বর্বর আক্রমণের কারণে গাজার ৮৫ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং ৬০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক আদালতে ইসরায়েলকে গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা এই ঘটনার সঙ্গে আরো গভীর সংযোগ রাখে।

Leave a Reply