একতা ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান এক সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি এবং সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি অভিশপ্ত রাজনৈতিক দল। যারা এই দলটি সৃষ্টি করেছে, তারা কেউ এই দলটি করে মরতে পারেনি। কেন তা হয়েছে তা গত দশ বছরে আমার এই বক্তব্যের উত্তর কেউ কোথাও দিতে পারেনি।” “মাওলানা হামিদ খান ভাসানী, আমেনা বেগম, তাজউদ্দীন আহমেদ, ডঃ কামাল হোসেন, ওসমানী, কাদের সিদ্দিকী, ফজলুর রহমান, ছাত্রলীগের সকল সেক্রেটারি-এরা কেউ আওয়াম লীগে কাজ করতে পারেননি। কারণ যেদিন থেকে আওয়ামী লীগ সৃষ্টি হয়েছিল, তাদের যেসব আদর্শ ছিল, তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন তারা মানুষের দল ছিল, কিন্তু যখন ক্ষমতার ভিতরে গিয়েছিল, তখন তারা অমানুষের দল হয়ে পরিণত হয়েছে।” “গত ১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ভাল কর্মীরা পেছনে পড়ে গিয়েছিল এবং নতুনরা এসে ক্ষমতা দখল করেছে। এদের কারণে আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে ঘৃণিত করে তুলেছে।” “১৫ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার একটি ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করেছে, আর শেখ হাসিনার রূপ ছিল ফ্যাসিস্ট। এখানে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা ছিল না, বরং সালমান এফ রহমান, ফারুক খানের মতো লোকেরা ছিলেন যারা আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতা নন, এরা সবাই রাজাকারদের বাচ্চা। এমনকি ওবায়দুল কাদেরও রাজাকারদের নেতা।”
তিনি বলেন “শেখ হাসিনাকে সুযোগ দেয়া হোক, কিন্তু জনগণের মধ্যে যে ঘৃণাবোধ ও কালো ছায়া রয়েছে, তা তাকে ঢেকে দেবে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগে শুধু ‘আ লিখতেও কষ্ট হবে।” “আওয়ামী লীগের যে আদর্শগুলো-ধর্মনিরপেক্ষতা, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা-এগুলো থাকবে। আওয়ামী লীগ না থাকলেও এসব আদর্শ নিয়ে এদেশে একটি দল থাকবে, এবং তা কেউ থামাতে পারবে না। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে অবহেলার শিকার হয়ে তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পদ পান এবং বর্তমানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Leave a Reply