একতা ডেস্কঃ বিএসএফ আগ্রাসী হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে। সীমান্তে একের পর এক গুলি চালিয়ে বাংলাদেশীদের হত্যা করছে। দুইটি লাশের জন্য অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুরের পেপুলবাড়িয়া গ্রামের ইছামতি নদীর তীরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ আবারো গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় রিয়াজ হোসেন (২২) নামে এক বাংলাদেশীর শরীর ঝাজরা হয়ে গেছে। মুমুর্ষ অবস্থায় তাকে প্রথমে জীবননগর হাসপাতাল থেকে যশোর ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রিয়াজ মহেশপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামের শফিউদ্দীনের ছেলে। রিয়াজের চাচাতো ভাই সুমন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে রিয়াজ সীমান্ত এলাকায় গেলে ভঅরতের নদীয়া জেলার হাসখালী থানার ফতেপুর বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালায়। গুলিতে রিয়াজ গুরুতর আহত হন।
পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। যশোর জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ইমন হোসেন বলেন, রিয়াজের শরীর থেকে ছররা গুলির কিছু অংশ বের করা হয়েছে। তবে একটি গুলি কিডনির পাশ দিয়ে ঢুকে গেছে। যশোরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মহেশপুরের কুসুমপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার আবুল হাসান জানান, রিয়াজ নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে এমন খবর তার কাছে নেই। এখনো পর্যন্ত কেউ অভিযোগও করেনি। বিজিবি সীমান্তে এখনো টহলরত রয়েছে। তবে রিয়াজ নামে একজন আছে, যে তালিকাভুক্ত চোরাকারবারী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। বিজিবি তাকে খুজছে বলেও তিনি জানান।
গত ২৭ এপ্রিল একই উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ওবাইদুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশীকে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগোনা জেলার বাদগা থানার মধুপুর এলাকায় হত্যা করা হয়। কিন্তু ৪ দিন পার হলেও বিএসএফ তার লাশ ফেরৎ দেয়নি। নিহত ওবাইদুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের হানেফ আলীর ছেলে।
Leave a Reply