আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সেই ১৯১১ সাল থেকে শুরু হয়ে শতবর্ষ পার হয়ে গেল প্রতিবছর এ দিবসটি নিয়ে কতরকম মাতামাতি করি আমরা। আসলে সবই লোক দেখানো মাত্র। মন থেকে নারীর প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে দিনটি পালন করা হয় না। তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো সারাদেশে যত্রতত্র ধর্ষনের ঘটনা। বিগত শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়ে শেষের দিকটায় এসে মোটামুটি হারে কমে এসেছিল এ অপরাধের পরিমাণ। সরকার পতনের পরপরই আবার তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্টতম ঘটনায় দ্বিতীয়বার মাগুরা হয়ে উঠলো খবরের শিরোনাম।
চোখের সামনে পত্রিকা মেলে ধরলেই প্রধান শিরোনামের জায়গায় দেখা যেত মাগুরার নাম। গত শতাব্দীর শেষের দিকের কথা। ১৯৯৪ সালের মাগুরা-২ আসনের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে মাগুরার নামটি প্রধান শিরোনাম হয়ে টিকে ছিল অনেকদিন ধরে। বিষয়টি এমনভাবে জেঁকে বসেছিল যে শিরোনামের জায়গাটি মোটে ছাড়তেই চাচ্ছিল না মাগুরা। এখনো মাঝে মধ্যেই সে নামটি আবার ভেসে ওঠে টেলিভিশনের পর্দাতেও। প্রায়ই টকশো-তে এ নামটি শোনা যায় বিভিন্ন রাজতৈক ব্যক্তিগণের মুখে।
তবে সেই পুরনো শিরোনামের ঘটনাটি মোটামুটি মুখে মুখে আলোচনা করার মতো বিষয় ছিল। আর সম্প্রতি আবার এমন এক ঘটনায় মাগুরা শিরোনামে এসে গেল, তা মুখে আলোচনা করা তো পড়ে থাক, মনে মনে ভাবলেও ঘৃণায় থুথু ফেলতে ইচ্ছে করে। সাত কী আট বছরের শিশু। গায়ে ওড়না থাক বা থাক, ওড়নার মানে বোঝার বয়স তার হয়নি। সে ঘরের বাইরেও বেলাল্লাপনা করে বেড়াতেও যায়নি। ঘরে শুয়ে থেকে নিষ্পাপ শিশুটি ধর্ষিতা হয়েছে আপন আত্মীয়ের কাছে। যারা তার অভিভাবকও বটে। বোনের বাড়িতে এসে দুলাভাই এবং বোনের শ্বশুরের দ্বারা ধর্ষিতা হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে নিষ্পাপ শিশুটি। কখনো বা মৃত্যুর খবরও শোনা যাচ্ছে। আবার বেঁচে থাকার খবরও আশ্বস্ত করছে হৃদয়বান মানুষদের।
এমন অমানবিক মর্মস্পর্শী ঘটনা যদি কারো হৃদয়কে নাড়া না দেয়, তবে সে অবশ্যই মানুষের মধ্যে পড়বে না। ভুল করে তাকে মুনুষ বলাটাও অপরাধ হবে। এ পরিস্থিতিতে একটি কথা না বললেই নয়। তা হলো, এই শিশু আছিয়াকে দেখে যার দেহে যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি হবে তার ঘরে নিজের মেয়েও কি সুরক্ষিত থাকবে? নিছকই যে শিশু। তাকে এখনো মেয়ে বলার মতো বয়স বা দৈহিকভাবে কোন লক্ষণই দৃশ্যমান হয়নি। তাহলে তাকে দেখে যার দেহে যৌনানুভূতি জেগে ওঠে, তার নিজের ঘরে কোন মেয়ে কি নিরাপদে থাকতে পারবে!
কখনোই সম্ভব না। পিতা ধর্ষক, পুত্র ধর্ষক, ধর্ষক পরিবারে কোন নারীই নিরাপদে থাকতে পারে না। এক শ্রেনীর রাজনৈতিক দল কথায় কথায় নারীর পোষাক নিয়ে প্রশ্ন তোলে। কই, ধর্ষক আর ধর্ষণের বিরুদ্ধে তো তাদের কোন উচ্চ বাচ্য নেই। এ ব্যাপারে তাদের এই নমনীয়তা কেন। বর্তমান অন্তরবর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো বলিষ্ঠ ভূমিকা পড়ে থাক, নূনতম কোনো ভূমিকা চোখে পড়ছে না। শাস্তির লেবাসধারী সরকার প্রধান কোন শাস্তিতে কোন সুখের অনুভব করছেন তা দেশবাসীর অজানাই থেকে যাচ্ছে। আর প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের দাঁড় করাচ্ছে লজ্জার দারপ্রান্তে। কেবল মাগুরা কেন, আমরা এমন লজ্জাজনক শিরোনাম হতে চাই না কোন বাঙালি আর বাংলাদেশ।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply