একতা ডেস্কঃ পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাজধানী ফাঁকা হতে শুরু করেছে। ঈদের ৯ দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে শুক্রবার থেকে। ফলে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ঘরমুখো মানুষ নানা প্রতারণা ও অপরাধের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গত বুধবার ধানমন্ডি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ডাকাতির ঘটনা রাজধানীর মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে।
এ কারণে ঈদে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রস্তুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে এক সভায় ঈদের ছুটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিশ্চিত নিরাপত্তার জন্য করণীয় বিষয়ে নানা দিকনির্দেশনা দেন আইজিপি। নির্দেশনার পর সারাদেশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ছাড়াও আনসার সদস্যরা এসময় মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। সর্বাধিক সংখ্যক টহলেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। মহানগর পুলিশ কমিশনার শেখ মোঃ সাজ্জাদ আলী সভাপতিত্বে এক সভায় ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ, বিজিবি থাকবে মাঠে।
টহল ছাড়াও সকল অলি গলিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা থাকবে। পুলিশ কমিশনার বলেন, পুলিশ দায়িত্ব পালন করলেও ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিজ দায়িত্বে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আমাদের ব্যবস্থাপনাটা আমরা করবো। মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রেজাউল মল্লিক বলেন, ডিবির পক্ষ থেকে সমগ্র মহানগরকে নিরাপত্তার চাদরে ডেকে দেওয়া হবে। সব জায়গাতে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা থাকবে। মহানগর উপপুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশ টহল ও চেক পোস্ট বৃদ্ধি করা হবে। সাত শতাধিক চেকপোস্ট পরিচালনা করা হবে।
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আগামীকাল শনিবার থেকে গার্মেন্টস ছুটি হবে। তখন সড়কে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। গাজীপুর থেকে শুরু করে উত্তর বঙ্গ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা সিলেট মহাসড়কের যেসব জায়গায় যানজট হয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। ওইসব জায়গায় এখন থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাইওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যানজটমুক্ত করতে হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে জেলা পুলিশও কাজ করবে।
Leave a Reply