একতা ডেস্ক: শুরু হয়েছে লবণ উৎপাদনের মৌসুম। চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও পটিয়ার কিছু অংশ এবং কক্সবাজারের ৬ উপজেলায় দেশের চাহিদা মেটানোর মতো যথেষ্ট লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। বছরের হেমন্ত থেকে শুরু করে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত লবণ উৎপাদনের মৌসুম। চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন।
লবণ উৎপাদন শুরু করেছেন উপকূলীয় পেকুয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীর লবণ চাষীরাও। কুতুবদিয়া-পেকুয়া ও বাঁশখালী তিন উপজেলায় শুক্রবার পর্যন্ত লবণ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ২২০ মেট্রিক টন। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ নভেম্বর থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলতি মৌসুমের পাঁচ মাসে কক্সবাজারের টেকনাফ, সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া, ঈদপীও, চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ৬৯ হাজার একর জমিতে চাষাবাদ হবে। এতে এবারে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয়েছিল ২৪ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন, যা বাণিজ্যিক লবণ উৎপাদন শুরুর পরবর্তী ৬২ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এবার তাপমাত্রা বেশি এবং ঝড়-বৃষ্টি না হলে লবণ উৎপাদন ২৬ লাখ মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেশে লবণের বার্ষিক চাহিদা নির্ধারণ হয়েছে ২৫ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।
তথ্য অনুযায়ী চলতি মৌসুমে, কুতুবদিয়ায় ৭ হাজার একর, টেকনাফে ৪ হাজার ৪২১ একর, মহেশখালীতে ১৫ হাজার একর, পেকুয়ায় ১০ হাজার একর, চকরিয়ায় ১১ হাজার একর, ঈদগাঁওর পোকখালীতে ৫ হাজার একর, কক্সবাজার সদরে ৩ হাজার ৯০০ একর এবং বাঁশখালীতে ৭ হাজার একর ও পটিয়াতে এক হাজার ৮৫০ একর মাঠে লবণ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।
বিসিকের থেকে পাওয়া তথ্যে, গতবছর ৬৮ হাজার একরের বেশি জমিতে আধুনিক পলিখিন পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন হয়েছে। এবারও শতভাগ জমিতে পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদিত হবে। এ বিষয়ে চাষিদের দেয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ। সনাতন পদ্ধতির তুলনায় পলিথিন প্রযুক্তিতে লবণ উৎপাদন আড়াই গুণ বেশি হয়। জেলার ৪৪ হাজার প্রান্তিক চাষি, একলক্ষ শ্রমিকসহ অন্তত ১০ লাখ মানুষ লবণ উৎপাদন-বিপণন-পরিবহন ও ব্যবসার সাথে কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং কালামিয়াপাড়ার লবণ চাষী সোনা মিয়া (৫৩) জানান, গতবছর ৫ একর জমিতে চাষ করে শুরু হতে মৌসুম শেষ পর্যন্ত প্রতিমণ লবণ বিক্রি করেছি ৪০০-৫০০ টাকায়। এ বছর ৬ একরে লবণ উৎপাদন শুরু করেছি। কিন্তু যাত্রাকালে লবণ বিক্রি হচ্ছে ০০০-৩৫০ টাকা মণে। এতে লোকসানের হতাশায় ভুগছি। প্রতিমণ লবণ উৎপাদনে চাষিদের খরচ পড়ছে প্রায় ৩৬০-৩৭০ টাকা। বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প কার্যালয়ের ডিজিএম জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, চলতি মৌসুম শুরুর ১৫ দিন আগেই মাঠে নেমেছে লবণ চাষিরা। কুতুবদিয়া, পেকুয়া ও বাঁশখালীতে লবণ উৎপাদন শুরু হয়েছে দেখে আমরা আশান্বিত- এবারও মৌসুম শেষ হবে রেকর্ড উৎপাদনে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে পুরো জমিতে লবণ উৎপাদন হয়ে চলবে টানা পাঁচ মাস। মৌসুমে দৈনিক ৪৫ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল গত বছর মার্চে। তবে একবার বৃষ্টি হলে টানা পাঁচ থেকে সাত দিন লবণ উৎপাদন বন্ধ থাকে। চাষিরা যেন ন্যায্য মূল্য পায়, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Leave a Reply