কবি পরিচিতিঃ
তরুণ কবি সোহাগুর রহমান, সোহাগ। কৈশোরের দুরন্তপনা, হাস্যোজ্জ্বল মুখ আর হাজারও স্মৃতি বুকে নিয়ে লেখকের বেড়ে ওঠা গ্রামের এক সাধারণ চাষি পরিবারে। প্রকৃত নাম সোহাগ হোসেন। জন্ম: ১৯৯৬ সালের ২২শে সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার শালিখা থানার দীঘলগ্রামে। পিতা: মুহাম্মদ আলী বিশ্বাস, মাতা: আঞ্জুরা খাতুন। গ্রামের প্রাথমিকেই লেখাপড়ার হাতেখড়ি। তারপর তালখড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে ২০১৮ সালে ফরিদপুর সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। মাধ্যমিকে অধ্যয়নকালীন সময়েই তার লেখালেখির হাতেখড়ি। সময় যত গড়িয়েছে সাহিত্যের প্রতি তার অনুরাগও বেড়েছে। চিঠির প্রতি কবির কবির অনুরাগের প্রমাণ তার রচিত ‘অবেলার ডাকপিয়ন’ বইটি পাঠক মহলে বেশ সাড়া জাগিয়েছে। তাছাড়া ইতিমধ্যে কয়েকটি যৌথগ্রন্থে তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। ‘বাতায়নে তার দেখা’ যৌথ কাব্যগ্রন্থটিতে তার কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণ কবিদের লেখা স্থান পেয়েছে। ‘শ্রেষ্ঠ বিকেলের গল্প-১’ এ লেখকের দুটি গল্প প্রকাশিত হয়েছে ২০১৯ অমর একুশে বইমেলায়।
১ নং-ইসলামিক গীতিকবিতা
দ্বীনের আলো
আল্লাহ আমার অন্তরে দাও
নূরের কুপি জ্বেলে,
হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দাও
ধুয়ে মুছে ফেলে!!
দাও না জ্বেলে দ্বীনের আলো
দূর করে সব মনের কালো
ওগো দয়াময়
ওগো প্রেমোময়!!
খোদা আমার হৃদয় হতে
দাও হটিয়ে অহংকার
যেন আমি না করি
লোক দেখানো ইবাদত আর!!
জ্ঞানের দুয়ার দাও না খুলে
সত্য যেন যাই না ভুলে
ওগো দয়াময়
ওগো প্রেমোময়!!
আল্লাহ তোমার খাজানা হতে
দাও না ঢেলে রহমত
যেন আমি করি তোমার
আনুগত্য আর ইবাদত!!
যেন রোজহাসর যায় না ভুলে
নিও রহমতের কোলে তুলে
ওগো দয়াময়
ওগো প্রেমোময়!!
২ নং ইসলামিক গীতিকবিতা
প্রশ্ন করো ‘কে’
রাশি রাশি জলভরা মেঘের ফাঁকে
চাঁদ তারা সূর্যকে কে লুকিয়ে রাখে!!
কে দেয় আলো, কে দেয় আঁধার
কে বাঁচায়, কে মারে
প্রশ্ন করো নিজেকে!!
ঝিরি ঝিরি বাতাস বয় রোজ দিকে দিকে
ফুলের প্রেমের কাছে মন হয়ে যায় ফিকে!!
কে দেয় শান্তি, হৃদয়ে তোমার
কে হাসায়, কে কাঁদায়
তোমাকে আমাকে!!
এঁকেবেঁকে নদী ছোটে সাগরের পানে
পাখিরা মুখরিত হয় গানে গানে!!
কে দেয় এই সুর, হৃদয়ে আমার
কে জেতায়, কে হারায়
আমাকে তোমাকে!!
৩ নং ইসলামিক গীতিকবিতা
‘মা’ ও ‘মা’
এত স্নেহের চোখে
কেউ দেখে না ‘মা’
তুমি দেখো আমাকে যেমন করে
এত মায়ার সুরে
কেউ ডাকে না ‘মা’
তুমি ডাকো যেমন স্নেহভরে!!
আমি তো তোমার ওই নয়নের মণি
তোমার কাছে মাগো আমি চিরঋণী!!
এত আদর করে
কেউ খাওয়ায় না ‘মা’
তুমি খাওয়াও যেমন মমতা ভরে
এমন গল্প বলে
কেউ ঘুম পাড়ায় না ‘মা’
তুমি ঘুম পাড়াও যেমন আমারে!!
চোখের আড়াল হলে কাঁদো তুমি জানি
তোমার কাছে মাগো আমি চিরঋণী!!
এত আবদার ওগো
কেউ তো রাখে না ‘মা’
তুমি তা পূরণ করো যেমন করে
এত আপন করে
কেউ ভাবে না ‘মা’
তুমিই আপন করো যেমন এ অভাগারে!!
তোমার কাছে আমি বরাবরই ধনী
তোমার কাছে মাগো আমি চিরঋণী!!
৪ নং ইসলামিক গীতিকবিতা
ওগো নূর নবী
কত যে মিষ্টি ওগো
সুমধুর ওই নাম,
হৃদয় সঁপে তার
জানাইছি সালাম!!
কত প্রিয় জানি না
জানে না তো কবি!!
তুমি প্রাণেরও প্রিয়
ওগো নূর নবী!!
কত যে সুন্দর ওগো
ছিলে তুমি রাসূল
তোমার প্রেমের ছলে
ফুটতো মরুর ফুল!!
তুমি নও শিল্পীর
আঁকা কোনো ছবি!!
তুমি প্রাণেরও প্রিয়
ওগো নূর নবী!!!
কত যে উদার ছিলে
মানুষের তরে
তোমার দ্বীনের আলো
জ্বলছে আঁধারে!!
তুমি নও জাদুকর
না ডুবে যাওয়া রবি!!
তুমি প্রাণেরও প্রিয়
ওগো নূর নবী!!!
৫ নং ইসলামিক গীতিকবিতা
তোমাকে লিখতে গেলে
তোমাকে লিখতে গেলে
ভুলে যায় সব
থেমে যায় হৃদয়ের
যত অনুভব!!
তুমি ছাড়া জীবন
ধূলো সমতুল্য
তুমি হলে জীবনের
পুষ্পমাল্য!!
তোমাকে গাইতে গেলে
সুর ভুলে যাই
হারিয়ে যায় সব সুর
দূর অজানায়!!
তুমিহীন এ জীবন
আঁধার তুল্য
তুমি হলে জীবনের
আসল মূল্য!!
তোমায় আঁকতে গেলে
ফুরায় রঙ তুলি
তুমি সেই ছবি
যা আঁকি হৃদয় খুলি
তুমি হলে আমার
প্রেরণা তুল্য
এ আমার কথা নয়
হৃদয় যে বলল!!
৬ নং ইসলামিক গীতিকবিতা
প্রিয় নবী
দূর আরবের হৃদয় হতে
উঠলো জেগে দ্বীনের রবি
আসলো ছুটে দলে দলে
সেই আলোর অনুরাগী!!
অন্ধকার হৃদয়ে সে রবি
আঁকলো প্রেমের ছবি
সেই ছবিতে হৃদয় মাঝে
হাসেন নূরের নবী!!
দো জাহানের বাদশাহ তিনি
যার বেদনায় ঝরে ফুল
আকাশ বাতাস সাগর নদী
প্রেমেতে তার হয় আকুল!!
সেই প্রেমেরই কাব্য লিখছে
আমাদের প্রিয় কবি
সেই কবিতায় মৌন মাঝে
আছেন বসে নূরের নবী!!
যার ডাকেতে দিলো সাড়া
কাফের মুশরিক মুনাফিক
নাফরমানি ছেড়ে তারা
আলো ছড়ায় দিগ্বিদিক!!
সেই আলোরই মালা পরে
প্রেম সাগরে ডুবি
সেই সাগরের নৌকার মাঝি
হলেন প্রিয় নবী!!

Leave a Reply