কবি পরিচিতিঃ
কবি ১৯৭৬ সালের ৬ জুন মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার নিভৃত পল্লী সেওজগাতি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা জীবনের হাতে খড়ি। এরপর মাইকেল মধুসূদন দত্ত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এম এ সমাপ্ত করেন। সপ্তম শ্রেণী থেকেই লেখালেখির হাতে খড়ি, মাসিক অনুক্ত, সঠিক সংবাদ, গ্রামের কাগজসহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিনে তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়েছে। দৈনিক দেশ হিতোষী পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতার হাতে খড়ি। বর্তমান ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আমার সংবাদ ও দৈনিক কুষ্টিয়া থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা পত্রিকায় কর্মরত। একক কাব্য গ্রন্থ ’প্রিয়তমা প্রেমা” ও ফটকি পাড়ের মৌ ছাড়াও তার ৩ টি যৌথ কাব্য গ্রন্থ “সেই তুমি” “বাংলার বন্ধু, ও কান্তার পল্লী প্রকাশিত হয়েছে । তিনি সামাজিক সংগঠন “স্বর্ণ পাঠাগার”শারমিন ইয়থ সোসাইটি ও প্রেমা সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা।
কবিতার আয়োজন
বদলে গেছে
এই বাড়িটার সব কিছু চেনা মনে হয়
খুব শৈশবে একবার এসেছিলাম বোধ করি
কৌতুহল বড় জাগছে কেন বার বার
এগিয়ে গিয়ে চোরের মতো চারপাশ ঘুরি।
হ্যা এটাই তো আমার সেই প্রিয়তমার বাড়ি
বুকের ভিতর কম্পন উঠে বইছে এখন ঝড়
ভীরু কাপুরুষের কন্ঠে ও নামে ডাকতে
শতবর্ষী মৌলানার মুখে এটা আমার বসত ঘর।
বিশ্বাস করতে সন্দেহ তবু আবার এলাম বাইরে
পুকুরটা তো ঠিকই দেখছি সিড়ি গুলোও আছে
আম গাছটাও দেখতে পাচ্ছি ঠিক তারই পাশে
তবে কেন এমন হল কি রহস্য পিছে?
কালা কাকা এগিয়ে এসে থমকে দিলো হঠাৎ
প্রিয়তমা হারিয়ে গেছে অনেক দিনের কথা
সেই শোকেতে মদন কাকা ছেড়ে দিছে দেশ
চোখটা আমার জ্লে ভরা বুকে পাষাণ ব্যাথা।।
নেশা ফুরালে
বুক পাঁজরে রেখে মাথা
উষ্ণ ঠোঁটের শীতল পরশ
জ্ঞানহীন ঘুম মৃত্যুর সাথে
সেই তুমি হয়েছিলে প্রেমা।
মাঝির বৈঠার আওয়াজ শুনে
কবিতা পাগল আমি
ঘর্মাক্ত শরীরের শব্দ নিয়ে
প্রেমের কবিতা লেখা।
সীমাহীন দৃষ্টিতে চোখে চোখ
কপাল টিপে উন্মাদ আমি
লজ্জায় আড়াল হলে তুমি
ভালোবাসি বলি অগোচরে।
না বলা ভাষার মধুস্বরে
তৃষ্ণার্ত শরীরে বুনি শব্দ মালা
নেশা ফুরালে হারিয়ে যাও
আড়ালে প্রতিচ্ছবি রেখে।।
প্রথম দেখা নারী
ছিটানো আলো ঝলমলে রোদে
প্রথম দেখা নারীর প্রতিচ্ছবি
আঁচল তুলে বলেছিল যুবক
বুকের এ পিঞ্জর শুধু তোমার।
অমাবস্যায় ছুটে এসো তুমি
পাহাড়ের গায়ে বিছিয়ে দিবো
হৃদয়ে থাকা অমৃত প্রেম
আঁচলে বাধব কুটির ঘর।
পঞ্চাশ পেরিয়ে দাঁড়িয়ে আছি
দেখেছি সাদা মেঘের কোলে
লাল সিঁদুরে বালিকা নারী
দাড়ানো সন্ধ্যা প্রদীপ হাতে।
স্বপ্ন পূড়ে ঘর বেঁধেছে
স্বর্গ সুখে শঙ্খ ফুঁকে
বোকা চোখে সন্যাস আমি
নিত্য পুড়ি ধুঁকে ধুঁকে।।
Leave a Reply