একতা ডেস্কঃ সত্য সরবদা অপ্রিয় হয়। পোষা কুকুর যেমন তার মালিকের প্রতি চিরকাল বিশ্বস্ত থাকে। ঠিক তেমন এদেশে থাকা ভারতীয় দালালরাও দিল্লির প্রতি সদা অনুগত থাকে। সংকটকালেও দাসত্ব ছাড়ে না। দেশ এবং দালালি মুখোমুখি অবস্থানে আসলে তারা দালালিটাকেই প্রাধান্য দেন। সম্প্রতি ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান ইস্যুতে পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্কে না গেলেও ভারতীয় এজেন্ট ও ফ্যাসিবাদের দোসরদের মুখোশ উন্মোচন হয়েছে তা যথাযথভাবেই বলা চলে। কিছুদিন আগে উগ্র হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসী ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা হলে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত নির্বিশেষে গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানায়। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও নিরব দেখা গেছে তথাকথিত সুশীল, বুদ্ধিজীবী, ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের। ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে একটি বাক্যও খরচ করতে দেখা যায়নি তাদের। বলা যায়, তারা গর্তের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন।
কিন্তু ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগানের বিষয়টি স্থগিত করা হলে একে একে গর্ত থেকে বেরিয়ে আসেন তারা। প্রতিবাদে সরব হতে দেখা দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাদের প্রতিবাদের ভাষা দেখে মনে হয়, যেন তারা একটি বিতর্কিত স্লোগানকে রক্ষা করতে জীবন দিতেও রাজি আছে কিন্তু দেশ সার্বভৌমত্ব হারিয়ে ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হলেও তাদের কোন সমস্যা নেই। এদিকে ভারতীয় দালালদের তালিকা করে রাখার এখনই উপযুক্ত সময় বলে মনে করেন দেশ প্রেমিক সচেতন মহল। জাতীয় যেকোনো ইস্যুতে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার দাবি তুলেছেন তারা। ভারতীয় দালালদের ব্যঙ্গ করে ফেসবুকে অনেকেই লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কথা বলার সময় গর্তে ছিলাম, এখন জয় বাংলা নিয়ে সরব। দেশ দখলে নিয়ে গেলেও সমস্যা নাই, জয় বাংলা থাকলে চলবে।’
ফেসবুকে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, জয় বাংলা স্লোগান বাঁচানোর জন্য ফেসবুকে পোস্ট করতেছেন আর বলতেছেন এটা স্বাধীনতার স্লোগান এটা কোন দলের স্লোগান নয়। আপনি একটা স্লোগান বাঁচানোর জন্য এত পোস্ট দিচ্ছেন, আর এদিকে ভারত আমীদের ফেনী, চট্টগ্রাম দখল করে ফেলবে হুমকি দিচ্ছে কই সেটার বিরুদ্ধেতো আপনার কোনো পোস্ট দেখলামনা। আপনি স্বাধীনতার স্লোগান বাঁচানোর জন্য পোস্ট করেন অথচ স্বাধীন দেশ দখল করে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে আপনার কোনো খবর নেই। আপনি কেমন দেশপ্রেমিক কেমন জয় বাংলা স্লোগান প্রেমিক তা আমাদের বুঝা হয়ে গেছে। আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, একটা রাজনৈতিক দল “জয় বাংলা’ স্লোগানটাকে নির্বাচনে ব্যবহার করত (জয় বাংলা, জিতবে এবার…… হামলা ও লুটপাট করার সময় ব্যবহার করত। নিজেদের জন্য সংরক্ষিত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত “জয় বাংলা” স্লোগানটি সার্বজনীন করা হয়নি। আর যারা এটা নিয়ে এত পোস্ট করতাছেন তারা আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতিবেশী দেশের আঘাতের সময় নিরব থাকেন। আপনারা কিভাবে দেশ প্রেমিক হতে পারেন?

Leave a Reply