একতা ডেস্কঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ২৩তম পাখিমেলা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান। মেলা উপলক্ষে শিশুদের জন্য পাখিবিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ, বই-পোস্টার প্রদর্শনী, সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, পাখি দেখা, পাখি চেনার প্রতিযোগিতা, পাখিবিষয়ক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে পাখি সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য বিগ বার্ড বাংলাদেশ, সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড, কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এবং স্পেশাল রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৫-এর পুরস্কার প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো আয়োজনের মধ্যে অন্যতম পাখি মেলা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা ও প্রজাপতি মেলায় ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবাই একত্রিত হয়। মানুষের মনোরঞ্জন করতে গিয়ে সাজেকের মতো জায়গায় দৃশ্যমান অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ অন্যান্য বিভিন্ন প্রজাতিও বিতাড়িত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও দৃশ্যমান অবকাঠামো তৈরির মাধ্যমে পাখির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপাচার্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিযায়ী পাখির আবাসস্থল নিরাপদ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদেরও মূল্য আছে। আমাদের কর্তব্য থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রাণীদের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম রাশিদুল আলম, বাংলাদেশ বন বিভাগের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। এ ছাড়া আইসিইউএন বাংলাদেশ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, বার্ড ক্লাবের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পাখি মেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. মানছুরুল হক।

Leave a Reply