একতা ডেস্ক: আগামী মাসের শুরুতেই বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রেল চলাচল শুরু করবে ঢাকা-নড়াইল-যশোর রুটে। শোনা যাচ্ছে বৃহত্তর যশোর এলাকার দাবি না মেনে এটা করা হলে ওই সময়েই উৎসব না করে করা হবে বিক্ষোভ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের অধীন ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল আগেই শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা জংশনের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়েছে ফরিদপুর রাজবাড়ী, কুষ্টিয়াসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একাংশ।
চলতি নভেম্বরের ১৫ তারিখের পর প্রকল্পের এই অংশে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাঙ্গা জংশনে সিগন্যালিংয়ের কাজ শেষ না হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ট্রেন চলাচল শুরু করা যায়নি।
ফলে নতুন রেলপথ চালু হলেও ট্রেনগুলো যশোর অঞ্চলের যাত্রী কতটা পাবে, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
উল্লেখ্য যে, বেনাপোল-ঢাকা রুটে দিনে দুটি, দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে দুটি এবং যশোর থেকে যমুনা সেতু হয়ে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রাখা ট্রেনের ভাড়া সাশ্রয়ী রাখা, যাত্রীবাহী ট্রেনের সঙ্গে সবজি ও ফুলবাহী বগি সংযুক্ত করা প্রভৃতি দাবিতে যশোরে বেশ কিছুদিন ধরে নাগরিক আন্দোলন চলছে। তবে নাগরিকদের দাবি মেনে নেওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি।
লক্ষ্য করা গেছে যে, নবনির্মিত পদ্মবিলা জংশনটি যশোর শহরের কেন্দ্রস্থল দড়াটানা ও যশোর রেলজংশন থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে। এটির অবস্থান যশোর-খুলনা মহাসড়ক থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গ্রামের মধ্যে। রাস্তার ওই অংশ সংকীর্ণ। দুটি পাড়ি ক্রসিংয়ের সুযোগও নেই। জংশনটি চালু হলে এই গ্রামীণ রাস্তার ওপর চাপ বাড়বে। দুর্ভোগে পড়বে যাত্রীরা।
এমতাবস্থায় ঢাকা-খুলনা রুটের ট্রেন যশোরের যাত্রী আকর্ষণে ব্যর্থ হতে পারে বলে মনে করছেন বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী। তিনি বলেছেন, দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেন সার্ভিস না দিলে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর ও মোবারকগঞ্জ স্টেশন ব্যবহারকারী যাত্রীদের ট্রেনে ঢাকা যাতায়াতের সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

Leave a Reply