একতা ডেস্কঃ ঢাকা মেডিকেলে মোমেনা বেগম (৪০) নামে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের হাতে চিকিৎসক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় শম্পা বেগম (৩৯) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে গত ৩১ আগস্ট অবহেলায় এক শিক্ষার্থী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঢামেক হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা ঘটে। এ হামলায় নিউরো সার্জারি বিভাগের কয়েকজন চিকিৎসক আহত হন।
মৃত মোমেনা বেগমের মেয়ে হাফিজা আক্তার বলেন, তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার মোজাখালী গ্রামে। তার মাকে স্ট্রোকজনিত কারণে গত ২১ ডিসেম্বর ভোরে ঢামেক হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রবিবার সারাদিন হাসপাতালে মায়ের সঙ্গে ছিলেন আমার খালা শম্পা ও খালু নাজির হোসেন। রাত ১০টার দিকে খালা ফোন কলে জানান, তার মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো না। এ খবর শুনে আমি হাসপাতালে আসি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মানার হাফিজ ২০০ ওয়ার্ডে এসে জানান, তার মা আর নেই। মায়ের মৃত্যুর পর চিকিৎসক চলে যাওয়ার সময় আমার খালা শম্পা চিকিৎসকের হাত ধরে টান দিয়ে বলেন, সারাদিন আমার বোনকে দেখতে আসেননি কোনো চিকিৎসক। তবে চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলা হয়নি। তখন চিকিৎসক উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় হাসপাতালে দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা জড়ো হয়ে যান। এ সময় কয়েকবার চিকিৎসকের কাছে ক্ষমাও চাওয়া হয়। পরে আমার খালাকে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, হাসপাতালে রোগী মারা যাওয়াকে কেন্দ্র করে এক নারী চিকিৎসকের গায়ে হাত দিয়েছে রোগীর স্বজনরা। এ ঘটনায় ওই রোগীর স্বজন শম্পাকে আটক করে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শাহবাগ থানার এসআই মাহমুদ হাসান জানায়, ঢামেক হাসপাতালে একজন নারী চিকিৎসক রোগীর স্বজনদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন। এ ঘটনায় ডা. মানার হাফিজ থানায় গিয়ে মারধর ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় মামলা করেছেন।

Leave a Reply