একতা ডেস্কঃ কোনো সম্পর্ক ছিল না জামায়াতের সঙ্গে। তার পরও কোণঠাসা করে রাখতে নিজের মাকে ওই সংগঠনের রোকন বলে অপপ্রচার করে বেড়াতেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তুরিন আফরোজের মা সামসুন নাহার তাসলিম এসব অভিযোগ করেন। সামসুন নাহার তাসলিম বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তুরিন আফরোজ প্রতিনিয়ত সব জায়গায় আমাকে জামায়াতের রোকন বলে অপপ্রচার চালায়। এই অপপ্রচার ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে উত্তরার বাসা থেকে বের করে দেয়। এখন নতুন সরকার এসেছে। ড. ইউনুসের সরকারের কাছে আবেদন, আমার বাসা ফেরত দেওয়া হোক।’
তুরিন আফরোজকে অনৈতিক ও উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সামসুন নাহার তাসলিম। নিজ মেয়ের কাছে নীনাভাবে নিগৃহীত হওয়ার কথাও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি অসহায় হয়ে এখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াই। আমি আমার দেশ ছেড়ে এ বয়সে কেন বিদেশে পড়ে থাকব? এ দেশ আমার জন্মস্থান, আমার ৫০ বছরের সংসার এখানে। আমি তো এখানেই থাকতে চাই। আমি আমার সংসারে ফিরে যেতে চাই।’ সামসুন নাহার বলেন, ‘আমার স্বামী মারা যাওয়ার ১৮ দিন পর আমাকে বাসা থেকে বের করে দেয় তুরিন। আমার দোষ তার কিছু আচরণের প্রতিবাদ করা। যেমন- ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে সব সময় ভাড়ার টাকা আমিই নিতাম। আমার স্বামী অবসরে যাওয়ার পর থেকে বাড়ি ভাড়ার টাকায় আমাদের সংসার ও ওষুধের খরচ চলত। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তুরিন বাসা ভাঁড়ার টাকা জোর করে নিয়ে নেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘অপরিচিত লোকদের রাত-বিরাতে ঘরে প্রবেশ করানো নিয়ে দারোয়ান ও ভাড়াটিয়ারা অভিযোগ করলে তুরিনের সঙ্গে প্রায়ই আমার ঝগড়া লাগত। এসব বিষয়ে নিষেধ করলে ডিজিএফআই, র্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নাম করে সে ভয় দেখাত। বলত ‘ওরা সবাই তার বন্ধু। কোনো কিছু বললেই ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করানোর ভয় দেখাত।”

Leave a Reply