একতা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান সঙ্কটকে অনাহত বলতে চাইলেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আটকে থাকার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় এই হাইকমিশনার। এসময় তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক বলেও জানান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক গঠনমূলক সম্পর্ক নির্মাণ করতে ভারতে চায় বলেও উল্লেখ করেন।
গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। আরপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর দপ্তরে তলব শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ অভিমত ব্যক্ত করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। আধা ঘণ্টার এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আরপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে কথা হয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্নার।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত পারস্পারিক আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এবং শাস্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক। আমরা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক বহুমাত্রিক। একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আটকে থাকবে না। আমরা দুই দেশের মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে আগ্রহী। সর্বশেষ দুই মাসে আমাদের পরস্পর সহযোগিতার জন্য ইতিবাচক কিছু উত্তরন হয়েছে। আমাদের অনেক ইতিবাচক বিষয় রয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা সবাই অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করে যাব। এর আগে বিকেলে চারটায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান প্রণয় ভার্নী। ঠিক সে সময়ই অফিস ছেড়ে যাচ্ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
এসময়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আজকে হাইকমিশনার কথা বলুক। বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কে আন্তরিকতা বাড়াতে বাংলাদেশের যতটুকু যা করার আমরা তা করবো। গতকাল সোমবার দুপুরে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলা হয়। হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠনের সমর্থকরা এই হামলা চালান বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে আরতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সোমবার হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির সভা ছিল আগরতলার বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের সামনে। সভা শেষে সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল হাইকমিশন কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিতে যায়। এসময় বাইরে থাকা কয়েক যুবক হঠাৎ সহকারী হাইকমিশন কার্যালয়ে ঢুকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিড়ে ফেলে। তারা হাইকমিশন কার্যালয়ের কিছু সাইনবোর্ড ডাঙচুর করে ও আগুন লাগিয়ে দেয়। পরে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সহকারী হাইকমিশনে হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আগরতলার হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির বিক্ষোজকারীদের দ্বারা বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনের প্রাঙ্গণে হিংসাত্মক বিক্ষোভ ও আক্রমণের কারণে বাংলাদেশ সরকার গর্জীরভাবে ক্ষুব্ধ।’
‘বাংলাদেশ সরকার আরও জানাতে চায় যে, বাংলাদেশের একটি কূটনৈতিক মিশনের ওপর এই জঘন্য হামলা এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার অসম্মান একটি প্যাটার্নে এসেছে গত ২৮ নভেম্বর কলকাতায় একই ধরনের হিংসাত্মক বিক্ষোন্ত হয়েছিল। আগরতলায় কুটনৈতিক মিশনের ওপর এমন হামলা ভিয়েনা কনজেনশন অন ডিপ্লোমেটিক রিলেশন, ১৯৬১ লঙ্ঘন হয়েছে।

Leave a Reply