একতা ডেস্কঃ কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে তিনি এমপি বা মন্ত্রী হতে পারবেন না এটিই বাংলাদেশের সংবিধানের নিয়ম। এর পরও পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশি নাগরিকত্ব থাকার তথ্য গোপন করে ২৪ জন মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ওই ২৪ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান করে দুদক তাদের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার বিষয়টি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। নাগরিকত্বের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের। সে জন্য তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দুদক বলেছে, ২৪ জন মন্ত্রী-এমপিসহ অন্য মন্ত্রী-এমপিদেরও দ্বৈত নাগরিকত্ব (যদি থাকে) থাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে গৃহীত ফলাফল দুদককে জানাতে অনুরোধ করা হলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সাইপ্রাসে ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের বেলজিয়ামে নাগরিকত্ব রয়েছে। সালমান কারাগারে থাকলেও হাছান মাহমুদ আছেন বেলজিয়ামে। সাবেক পাঁচজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব রয়েছে। তারা হলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল, মো. তাজুল ইসলাম, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও মো. মাহবুব আলী। মাহবুব আলী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব রয়েছে সাবেক চারজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ মোট সাতজন সংসদ সদস্যের। তারা হলেন আব্দুস শহীদ, নসরুল হামিদ, জুনাইদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আবদুস সোবহান মিয়া (গোলাপ), মাহফুজুর রহমান ও সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ। তাদের মধ্যে শহীদ, পলক ও গোলাপ কারাগারে রয়েছেন। পলকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৮ কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এরই মধ্যে মামলা করেছে দুদক। কানাডার নাগরিকত্ব রয়েছে ছয়জনের। তারা হলেন আবদুর রহমান, মাহবুব-উল আলম হানিফ, আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (নাসিম), শামীম ওসমান, শফিকুল ইসলাম (শিমুল) ও হাবিব হাসান। সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব রয়েছে সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের। জাপানে থাকার অনুমতি পেয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী জিল্লুল হাকিম। সাবেক এমপি তানভীর হাসান জার্মানির ও এমএ ওয়াহেদ পাপুয়া নিউগিনির নাগরিক। ২৪ জনের মধ্যে পাঁচজন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বাকিদের ৫ আগস্টের পর থেকে হদিস মেলেনি, অনেকে গোপনে দেশত্যাগ করেছেন বলে খবর প্রকাশ হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। কয়েকজনের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে মামলাও দায়ের করেছে।

Leave a Reply