একতা ডেস্কঃ ১৮৬৩ সালের এই দিনে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১৭ এপ্রিল ১৯২৯)। তিনি রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুসলমান মন্ত্রী। তার দৌহিত্র মোহাম্মদ আলী পাকিস্তানের তৃতীয় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ ছাড়া তার এক পুত্র সৈয়দ হাসান আলী চৌধুরী পূর্ব পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রী ছিলেন।
নওয়াব সাহেব টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ীর বিখ্যাত জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তারও আড়াইশ বছর আগে নওয়াব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরীর প্রপিতামহ শাহ সৈয়দ খোদা বক্স বর্তমান টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ীতে বসতি স্থাপন করেন। নওয়াব আলী চৌধুরী শৈশবে গৃহশিক্ষকের কাছে আরবি, ফার্সি, ও বাংলায় বিশেষ শিক্ষা লাভ করেন। তার আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া শুরু হয় রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলে এবং পরবর্তী সময়ে তিনি কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট জোভিয়ার্স কলেজ থেকে এফএ পাস করেন।
১৮৯৫ থেকে ১৯০৪ পর্যন্ত নওয়াব আলীর কর্মতৎপরতা ছিল প্রধানত সাহিত্য ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক। ১৮৯৫ সালে মিহির ও সুধাকর পত্রিকা একত্রিত হয়ে সাপ্তাহিক মিহির-সুধাকর নামে আত্মপ্রকাশ করে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, পণ্ডিত রেয়াজউদ্দিন আহমদ আল মাশহাদী, কবি মোজাম্মেল হকের সাহিত্য প্রকাশনায় নওয়াব আলীর দান ছিল অপরিসীম। তার রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- মৌলুদ শরীফ (১৯০৩), ভারনাকুলার এডুকেশন ইন বেঙ্গল (১৯০০), প্রাইমারি এডুকেশন ইন রুরাল এরিয়াস? (১৯০৬) প্রভৃতি। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন থেকে নওয়াব আলী চৌধুরী রাজনীতিতে সক্রিয় হন। নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী ১৭ এপ্রিল ১৯২৯ সালে দার্জিলিংয়ের ইডেন ক্যাসেলে মৃত্যুবরণ করেন।

Leave a Reply