একতা ডেস্কঃ চার দিনের কুয়েত সফরের শেষ দিনে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন এই দেশের রাজনীতিবিদদের উপর গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। আগের মত পাগলামি বোকামি করলে আগামীর প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে দেশ প্রেমের পরিচয় দিতে হবে।
গতকাল সন্ধ্যায় আরদিয়া সানাইয়া এলাকায় কুয়েতে বাংলাদেশ কুরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেন, আমরা মালিক নয় আমরা হব জাতির খাদেম। আমরা সবার ভালবাসা বন্ধুত্ব চাই। যারা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিবে আমরা তাদের বুকে জড়িয়ে নিব। জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে যারা সহযোগিতা করবে তাদের শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা জানাব। ৫৩ বছর যারাই দেশ পরিচালনা করেছেন, তারা জাতিকে সম্মান করতে পারেননি। তারা যখনই ক্ষমতায় গিয়েছেন, সেবকের পরিবর্তে অনেকেই মালিক হয়ে বসে ছিলেন।
প্রবাসীদের অভিযোগ ও অভিমত শুনে জামায়াতের আমীর বলেন, ‘আমি যেই দেশেই যাচ্ছি, সেই দেশে কষ্টের হাহাকার শুনতে পাচ্ছি। আমরা সময় মতো পাসপোর্ট পাই না। সময় মতো পেতে হলে বাড়তি খরচ করতে হয়। এরে দিতে হয় ওরে দিতে হয়। করুণার পাত্র। আবার কেউ মারা গেলে লাশটা সহজে দেশে নেওয়া যায় না। অনেক কান্নাকাটি করতে হয়। এদিক ওদিক দৌড়াতে করতে হয়। দেশে যাব বিমান টিকেট ভাড়া দ্বিগুণ আড়াই গুণ করে ফেলা হয়। যেটাজুলুম। অনেকেই বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেন ন্যায্য পাওনা পান না। বঞ্চিত হন আমার সরকার আমার এ্যাম্বেসি আমার পাশে দাঁড়ায় না। তাহলে এ্যাম্বেসি এখানে কেন? এ্যাম্বেসি হচ্ছে সরকারের প্রতিনিধি এ্যাম্বেসি হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এ্যাম্বেসি যদি প্রবাসীদের বিভিন্ন দুঃখ কষ্ট সমস্যা না দেখে, তাহলে এখানে দরকার নাই। প্রবাসীরা তাদের ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হলে বাধাগ্রস্ত হলে এই দেশের সরকারকে বুঝিয়ে সেটা আদায় করা। আমরা বিভিন্ন জাগায় উপলব্ধি করি এ্যাম্বেসির দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করছে না। শেষে জামায়াত আমীর প্রত্যেক প্রবাসীকে স্থানীয় কানুন মেনে চলতে অনুরোধ করেন।
কুয়েতের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে দেশটিতে সফরে যান ডা. শফিকুর রহমান। গত বুধবার সকালে কুয়েত এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে কুয়েত বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।

Leave a Reply