একতা ডেস্কঃ শেখ হাসিনার পতনের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন দিক থেকে আলোচনা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীকে একত্রিত করেছে। এই আন্দোলনের জনসমাবেশে ধর্মীয় সংগঠনের কর্মীদের সংখ্যাধিক্য থাকলেও, বামপন্থি দলগুলোর অংশগ্রহণও ছিল লক্ষণীয়।
পাক ভারতীয় উপমহাদেশের বামপন্থি রাজনীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে গেলে উল্লেখ করতে হয় ১৯২০ সালে বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায়ের হাত ধরে রাশিয়ার তাসখন্দে প্রতিষ্ঠিত ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির কথা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সেই ঐতিহ্যেরই উত্তরসূরী। দেশভাগের পর ১৯৬৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিষ্ঠিত হয় “কমিউনিস্ট পার্টি অব ইস্ট পাকিস্তান” যা পরে রূপ নেয় “কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ”-এ। এই পার্টি উপমহাদেশে সামন্ত প্রথার বিলোপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামাজিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দিয়েছে।
শেখ হাসিনার পতনের পর, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) এক বিবৃতিতে হাসিনা সরকারের শাসনামলকে “কর্তৃত্ববাদী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত” বলে উল্লেখ করে। তবে, পরবর্তী বিবৃতিতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা সামনে রেখে পরোক্ষভাবে হাসিনা সরকারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সিপিএমের সুপ্রাচীন শ্রদ্ধাবোধের কারণে হয়েছে।
তবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ভারতের এই অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়। গত দুই দশকে ভারতের আওয়ামী লীগ-কেন্দ্রিক বাংলাদেশ দর্শন থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে সিপিবি। শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে সিপিবির দূরত্ব বাড়তে শুরু করে সেই সময় থেকেই।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বামপন্থি দলগুলোর ভূমিকা এবং তাদের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

Leave a Reply