একতা ডেস্কঃ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মামুন মিয়া দল থেকে পদ এবং সদস্যপদ খোয়ানোর চার মাস পর প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরে পেলেন। বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যবহৃত ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি রাতের অন্ধকারে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার অভিযোগে তাদের এই শাস্তির মুখে পড়তে হয়। গতকাল বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তিন নেতার প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই চিঠিতে তাকে ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে না জড়ানোর জন্য সতর্ক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আবু সুফিয়ান বলেন, বিনা দোষে শাস্তি পেয়েছিলাম। ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং জনগণ দুঃসময়ে আমাকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছেন। তাদের প্রতি এবং আমার নেতা তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা।
এ বছরের ২৯ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর কালুরঘাট এলাকার একটি ওয়্যার হাউস থেকে একে একে ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি বের হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। সুফিয়ানসহ বিএনপির তিন নেতার তদারকিতে এস আলমের গাড়িগুলো পার করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গাড়ি বের করার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে তারা বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে স্বীকারও করেছিলেন। ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি কেন্দ্র থেকে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। একই সঙ্গে কমিটির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক ও সদস্য মামুন মিয়ার প্রাথমিক সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। তবে তারা তিনজনেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন।
প্রাথমিক সদস্যপদ এমন সময়ে ফিরিয়ে দেওয়া হলো যখন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের তোড়জোড় চলছে। বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দক্ষিণ জেলার কর্ণফুলী উপজেলায় এস আলম শিল্প গ্রুপের বেশিরভাগ শিল্প কারখানার অবস্থান। আর বাঁশখালীতে আছে ২৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। ফলে দক্ষিণ জেলায় বিএনপির নতুন কমিটিতে নিজেদের অনুগত লোকজনকেই দেখতে চাইছেন এ শিল্প গ্রুপের কর্ণধাররা।

Leave a Reply