একতা ডেস্কঃ চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে। এরই মধ্যে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা পায়ে মাড়াচ্ছেন।
তবে ছবিসূত্র অনুসন্ধানের পর রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, ভাইরাল ছবিটি বাস্তব নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। ফ্যাক্ট চেক সংস্থাটি জানিয়েছে, ছবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানেও ছবিটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে দেখা গেছে। রিউমর স্ক্যানারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাঁর্বিকৃত ছবির সূত্রপাত অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ১ ডিসেম্বর ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস নামে একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে এই ছবিটি সর্বপ্রথম প্রচারিত হয়। এই অ্যাকাউন্ট থেকে আগেও বিভিন্ন গুজব ছড়ানোর নজির পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার টিম।
ভাইরাল ছবিটি গভীরভাবে বিশ্লেষণে রিউমর স্ক্যানার যা পেয়েছে তা হলো, ছবিতে থাকা ব্যক্তির ডান পায়ের একটি আঙুল অস্বাভাবিকভাবে অর্ধেক দেখা যাচ্ছে। পায়জামার একটি ভাঁজ এমনভাবে রয়েছে, যা দেখতে ধুতির মতো মনে হয়। বাংলাদেশের পতাকার লাল বৃত্তের কাপড়ের ভাঁজও স্বাভাবিক নয়। এছাড়া ছবির আলোর প্রতিফলন, ছায়া এবং ব্যক্তির চোখের অভিব্যক্তিতেও অসামঞ্জস্য লক্ষ করা গেছে। এ ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি সাধারণত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরির ক্ষেত্রে দেখা যায়।
স্ক্যানার জানায়, এই ধরনের অসামঞ্জস্য লক্ষ করার পর ছবিটির বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শনাক্তকরণ ওয়েবসাইট ব্যবহার করা হয়। এসব ওয়েবসাইটের বিশ্লেষণে ছবিটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হওয়ার পক্ষে ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত ফলাফল পাওয়া গেছে।
আরও জানা গেছে, ডিপফেক শনাক্তকরণ প্ল্যাটফর্ম ট্রমিডিয়ার পর্যবেক্ষণও বলছে আলোচিত ছবিতে ম্যানিপুলেশনের উল্লেখযোগ্য প্রমাণ রয়েছে। অর্থাৎ ছবিটি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত এক ব্যক্তি ভারতের জাতীয় পতাকা পায়ে মাড়াচ্ছেন দাবিতে এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে, যা একেবারে মিথ্যা ও গুজব।

Leave a Reply